জুমার দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) পনেরোটি মহা মুল্যবান নছীহত, - দৈনিক অভিযোগ বার্তা    
admin
১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১২:৩০ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

জুমার দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) পনেরোটি মহা মুল্যবান নছীহত,

ইয়াছিন আলী খান,

সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন জুমার দিন। আল্লাহ তাআলা এই দিনকে অন্য দিনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। মমতা ও হৃদ্যতায় মুমিন হৃদয়ে অপার্থিব এক সুখ ফুটে ওঠে জুমাবারের দৃশ্যে। বিশ্বাস ও সমর্পণ পারস্পরিক সৌন্দর্য সম্প্রীতি ও এক অদ্ভুত ভালোবাসার দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ে ভুবনজুড়ে। এদিনের বিশেষ কিছু ইবাদত আছে, নবী (সা.)-এর জীবন সেসব বিষয়ে ফোটে ওঠে। নিম্নে সেগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো— এক. জুমাবারের ফজরের তিলাওয়াত করা। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৬৮) জুমার দিন এই সুরা তিলাওয়াত করতেন। কারণ এই সুরাতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির কথা, পুনরুত্থানের কথা, কিয়ামতের দিন সবাইকে সমবেত হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আর এসব হবে জুমার দিন। সে জন্য এই সুরা পাঠ করে উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। দুই. এদিন বেশি পরিমাণে দরুদ শরিফ পড়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা জুমার দিন আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ কোরো। কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭) তিন. ইসলামের যেসব ফরজ বিধান আছে, এর মধ্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ জুমার নামাজ। আরাফার দিবসের পর এদিনই সব চেয়ে বেশি মানুষ একসঙ্গে সমবেত হয়। যারা জুমার নামাজকে অলসতা কিংবা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ছেড়ে দেয়, তাদের হৃদয়ে আল্লাহ তাআলা মোহর মেরে দেন। চার. এই দিনে বিশেষভাবে গোসল করার তাগিদ এসেছে। সালিম (রহ.) থেকে তাঁর পিতার সূত্র থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে সে যেন গোসল করে আসে। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৪৯২) পাঁচ. অন্য দিনের চেয়ে এদিন বেশি সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮০) ছয় ও সাত. মিসওয়াক করা এবং প্রত্যুষে নামাজের জন্য জাগ্রত হওয়া। সাত. ইমাম জুমার নামাজে আসার পূর্ব পর্যন্ত নামাজ, জিকির ও তিলাওয়াতে রত থাকা। আট. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সঙ্গীকে বলল, ‘চুপ থাকো’ সে একটি অনর্থক কাজ করল। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১৪০১) নয়. সুরা কাহফ পড়া। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তীকাল জ্যোতির্ময় হবে।’ (আত-তারগিব, হাদিস : ৭৩৫) দশ. জুমার নামাজের নির্ধারিত সুরা পাঠ করা। নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজে ও জুমার নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা-’ ও ‘হাল আতা-কা হাদিসুল গা-শিয়াহ’ সুরাদ্বয় পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯১৩) কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) সুরা জুমুআ ও সুরা আলা তিলাওয়াত করতেন। এগারো. পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কাপড় পরিধান করা। আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তার উৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, এরপর জুমার সালাতে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দুজনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করা হয়। (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস : ১০৯৭) বারো. মসজিদে সুগন্ধি লাগানো। ওমর (রা.) জুমার দিন দ্বিপ্রহরে মসজিদে সুগন্ধি লাগানোর জন্য আদেশ করেছেন। তেরো. এদিন মহান রবের পক্ষে গুনাহ মাফের বারি বর্ষিত হয়। নবী (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম যদি পবিত্র হয়ে জামে মসজিদের দিকে হাঁটতে থাকে, এরপর ইমাম নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে, তাহলে এ নামাজ এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহের কাফফারা (মোচনকারী) হয়ে যাবে, যদি ধ্বংসকারী তথা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৩৭২৯) চৌদ্দ. জুমার দিন কবরের আজাব মাফ হয়ে যায়। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) জুমার দিন ছাড়া (অন্য দিন) ঠিক দুপুরে নামাজ আদায় করা অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন, জুমার দিন ছাড়া (অন্যান্য দিনে) জাহান্নামের আগুনকে উত্তপ্ত করা হয়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১০৮৩) জুমার দিনে বা রাতে যে মারা যাবে, তার থেকে কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে এটা এই হাদিস থেকে প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব দেওয়া হবে না এটা নিশ্চিত নয়। পনেরো. বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, জুমার দিনের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করে নিশ্চয়ই তিনি তাকে তা দান করেন। তিনি বলেন, সে মুহূর্তটি অতি স্বল্প। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৮৫৮) বেশির ভাগের মতে, সে সময়টি আসরের পর থেকে নিয়ে মাগরিবের আগ মুহূর্ত। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন আমাদের কে ইসলামের সকল বিধিবিধান মেনে চলার তৌফিক দান করুক, আমিন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বালিয়াডাঙ্গীতে এসি ল্যান্ডের সামনেই ১৪০ টাকা দরে অকটেন বিক্রয় করা হচ্ছে এমন অভিযোগ

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত

চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুন, পুড়ল পাওয়ার কার ও কোচ

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএমএসএস ও হরিরামপুর প্রেসক্লাবের শ্রদ্ধাঞ্জলি

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

ফেরিতে উঠতে গিয়ে পদ্মায় পড়ে গেছে যাত্রীবাহী বাস

ভোলা দৌলতখানে ৫ বছরের ব্যবহৃত পথ বন্ধ: অবরুদ্ধ পরিবার, নেপথ্যে স্থানীয় প্রভাব

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে ময়মনসিংহে দূর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন

মানিকগঞ্জে কালিগঙ্গা নদীতে গোসল করতে গিয়ে ২ জনের মৃত্যু

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয়’ নিয়ে বিশেষ সভা

১০

ছাত্রদলনেতা খোরশেদ হ’ত্যাকান্ডে জড়িত তারেক আটক

১১

বিশ্ববাজারে সোনার বাজারে বড় ধরণের দাম পতন

১২

কক্সবাজারে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে ছাত্রদল নেতা নিহত

১৩

উচ্চশিক্ষায় ১০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা দিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

১৪

সুলিভানের জোড়া গোলে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ

১৫

নান্দাইলে বিশেষ অভিযানে ৭ আসামি গ্রেফতার, গাঁজাসহ আটক ১

১৬

সাবেক এমপি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী আটক

১৭

২২ দিনের জ্বালানি নিশ্চিত, নতুন করে আনা হচ্ছে আরও তেল

১৮

বিয়ের অনুষ্ঠানে চমক, অকটেন উপহার দেওয়া হলো বরকে

১৯

মিঠামইনে আ.লীগ–বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ৩০

২০

Design & Developed by BD IT HOST