
নিউজ ডেক্সঃ আধ্যাত্মিক সাধক ফকির লালন শাহ ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর বাংলা ১ কার্তিক ১১৬ বছর বয়সে দেহত্যাগ করেন। তার অমর বাণী”মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি”বিশ্ব মানব মুক্তির এটি একটি অমর বাণী। সংগীত দর্শন মুক্তির দিকনির্দেশক বললেও বাড়িয়ে বলা হবে না। নজরুলের “গাহি সাম্যের গান-মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহিয়ান”সমার্থক। কুষ্টিয়া জেলার ছেউড়িয়া গ্রামে এ দার্শনিক দেহত্যাগ করেন। এখন সেখানে চলছে ১১৩ তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী লালন উৎসবে হাজার হাজার লালন ভক্তের মহামিলন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও ভক্তরা এসেছেন নিজ উদ্যোগে।অন্তরের টানে বহুবার ছুটে গিয়েছি মানব মুক্তির মহামিলন কেন্দ্রে। আধ্যাত্মিক সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ। লৌকিক বাংলার কিংবদন্তি সাধক লালন সাঁইয়ের দর্শন প্রচারের একমাত্র মাধ্যম ছিল তার সৃষ্ট সুর এবং সংগীত। মানুষের মুক্তি মানুষের জয় মানুষের ভক্তি সব কথাই তিনি সংগীতের মাধ্যমে গ্রাম-গ্রামান্তরে প্রচার করে বেরিয়েছেন। সাঁইজির এ বাণী এ মুক্তির দর্শন ছেউড়িয়া থেকে কুষ্টিয়া, কুষ্টিয়া থেকে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ থেকে ভারত,সাগর মহাসাগর পাড়ি দিয়ে পৌঁছে গেছে আমেরিকা ইউরোপ আফ্রিকা। কালা সাদা ধনী-দরিদ্র হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান সকলের কথা তিনি সংগীতের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বময়। ভাবতে অবাক লাগে তার গান তার পোশাক তার একতারা মানব মুক্তির দর্শন ব্যাপক মানুষকে প্রভাবিত করছে। ধর্মীয় শৃংখলে আবদ্ধ হয়ে নয় অথবা আধুনিক যুগের ভোগবাদী জীবন মানুষের শেষ কথা নয়। এক্ষেত্রে তার অমর বাণী “সব লোকে কয় লালন কি জাত এ সংসারে লালন বলে জাতির কিরূপ দেখলাম না এ নজরে”। কার্তিকের সন্ধ্যায় গ্রাম বাংলায় হেঁটে গেলে দেখা যায় শোনা যায় দূর থেকে ভেসে আসছে পাড়া মহল্লায় লালনের সংগীত একতারার শব্দ। এ শব্দে মন প্রাণ জুড়িয়ে যায়। অর্থ দিয়ে ঘটা করে মঞ্চ বানিয়ে বিলাসিতার মধ্য দিয়ে নয় স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে এ বাণী ছড়িয়ে যাচ্ছে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। সাইজির ভক্তরা হৃদয়ে ধারণ করে এ বানী ছড়িয়ে দিচ্ছে সবখানে। পৃথিবীর অনেক দর্শন রাজনৈতিক তত্ত্ব ও থিউরি বিভিন্ন রাষ্ট্র সরকারের ও সংগঠনের মাধ্যমে প্রচার করার পরেও মানব মুক্তির চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি বরং অনেক জায়গায় সেটি ব্যর্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু আজও লালনের বাণী লালনের দর্শন লালনের সংগীত বিশ্বময় ছড়িয়ে যাচ্ছে সকল প্রকার ধর্মীয় সহিংসতা এবং কর্পরেট ভোগবাদীতাকে উপড়ে ফেলে “মানুষ ভোঁজলে সোনার মানুষ হবি” এই দর্শনে জেগে উঠছে পৃথিবী,সমাজ মানুষ এবং মানুষের মনজগৎ। জাগছে মানুষ, জাগবে মানুষ,আঁধার ভেদিয়া। মানুষের জয় হোক।সাঁইজী অমর রাহে। লেখক পরিচিতিঃ এ্যাড দীপক কুমার ঘোষ রাজনীতিবিদ ও কলামিস্ট
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST