
এস এম ফিরোজ আহামেদঃ
“মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।” অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি সব ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় আবার এলো নতুন বছর।আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন। নতুন বছর আবাহনে মঙ্গলবার এক সর্বজনীন প্রাণের উৎসবে মেতে উঠবে জাতি, ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশর সব মানুষ।
বর্ষবরণ উৎসব উদ্যাপনের লক্ষ্যে আজ দেশব্যাপী নানামাত্রিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একটি স্বস্তিকর গণতান্ত্রিক পরিবেশে এবার নতুন বছরকে বরণ করা হবে। যদিও বৈশিকভাবে দেশে-দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে একটি অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে।
এ অবস্থায় শান্তির বার্তা নিয়ে আসছে বাংলা নতুন বছর।কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী বাঙালিরা যে যেখানে আছেন সবাই এই উৎসব উদযাপন করবেন। একই সঙ্গে পার্বত্য জনপদের বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মানুষ নিজ নিজ ঐতিহ্যবাহী রীতিতে বর্ষবরণ উৎসব উদযাপন করবে।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
উৎসব ও নতুন জীবনের প্রতীক হিসেবে উদযাপিত হয় পহেলা নববর্ষ। এক সময় নববর্ষ উদযাপিত হতো ঋতুধর্মী লোকজ উৎসব হিসেবে। তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতুনির্ভর। বাংলা পিডিয়ার তথ্য অনুসারে, কৃষিকাজের সুবিধার্থেই মুগল সম্রাট বাদশা আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০/১১ মার্চ বাংলা সন প্রবর্তন করেন এবং তা কার্যকর করেন তার সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে (৫ নভেম্বর ১৫৫৬)। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়। নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।
বাদশা আকবরের সময় বাংলার কৃষকরা চৈত্রমাসের শেষদিন পর্যন্ত জমিদার,তালুকদার এবং অন্যান্য ভূ-স্বামীরা খাজনা পরিশোধ করত। পরদিন নববর্ষে ভূস্বামীরা তাদের মিষ্টিমুখ করাতেন। এ উপলক্ষে তখন মেলা এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো।
এক পর্যায়ে বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব হয়ে ওঠে হালখাতা। গ্রামে-গঞ্জে-নগরে ব্যবসায়ীরা নববর্ষের প্রারম্ভে তাদের পুরানো হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করে হিসাবের নতুন খাতা খুলতেন। এ উপলক্ষে নতুন-পুরাতন খদ্দেরদের মিষ্টিমুখ করানো হয়। গ্রামের সাধারণ মানুষ এ দিনে বাড়িঘর পরিষ্কার রাখে, ব্যবহার্য সামগ্রী ধোয়ামোছা করে করেন। ভালো খাওয়া, নতুন পোশাক পরার রীতিও চালু রয়েছে। নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় সামাজিক বন্ধনের একটি অংশ হয়ে উঠেছে।
নববর্ষকে উৎসবমুখর করে তোলে বৈশাখী মেলা। লোকশিল্পজাত নানা পণ্য সামগ্রী মেলায় পাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন লোকজ খাদ্যদ্রব্য যেমন: চিড়া, মুড়ি, খৈ, বাতাসা, বিভিন্ন প্রকার মিষ্টি প্রভৃতির বৈচিত্র্যময় সমারোহ থাকে এসব মেলায়। লোক গানসহ বিনোদনেরও আয়োজন থাকে। পহেলা বৈশাখে দৈনিক অভিযোগ বার্তা’র পরিবারের পক্ষ থেকে দেশের সকল মানুষ কে শুভেচ্ছা এবং পএিকার সকল সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য শুভকামনা জানানো হয়েছে।
লেখক- এস এম ফিরোজ আহামেদ- প্রকাশক, দৈনিক অভিযোগ বার্তা
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST