
আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনয়ন চূড়ান্তের দৌড়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। ইতোমধ্যে সাবেক ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে থেকে বেশ কয়েকজন তরুণ ও ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক আলোচনায় এসেছেন। সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস–এ প্রকাশিত “প্রথমবারের মতো ধানের শীষ পেতে যাচ্ছেন যেসব সাবেক ছাত্রদল নেতা” শিরোনামের প্রতিবেদনে রাজশাহী–০৫ (পুঠিয়া–দুর্গাপুর) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে আবু বকর সিদ্দিকের নাম।

আবু বকর সিদ্দিক ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি। ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের মূল কমিটিসহ বিভিন্ন হল শাখা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগঠন পরিচালনায় দক্ষতা, সাহসিকতা ও নেতৃত্বগুণের কারণে তিনি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বিশেষভাবে পরিচিত হন।
বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, আবু বকর সিদ্দিক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থাভাজন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। রাজধানী ঢাকায় দলের বিভিন্ন আন্দোলন–সংগ্রাম ও কর্মসূচিতে তিনি সবসময় সম্মুখ সারিতে ছিলেন। অতীতের দমন–পীড়নের সময় জীবনবাজি রেখে রাজপথে অবস্থান করেছেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের অন্যতম নিরাপত্তা দায়িত্বে (ভ্যানগার্ড হিসেবে) পালন করেছেন।
জেলার দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা দুটি নিয়ে গঠিত রাজশাহী–০৫ আসনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন পুনর্গঠন, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং আন্দোলন–সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে বিগত সরকারের সময় একাধিক মামলা ও হয়রানির মুখে থেকেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি নির্লোভ, গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ–দুর্ভোগে পাশে থাকা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগের কারণে এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছেন। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কর্মী সমাবেশ, দোয়া মাহফিল ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে তিনি নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “রাজশাহী–০৫ আসনে তরুণ ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। আবু বকর সিদ্দিক সেই শূন্যতা পূরণ করতে সক্ষম হবেন। তিনি মাঠে সক্রিয়, ক্লিন ইমেজের অধিকারী এবং ত্যাগী নেতা হিসেবে তৃণমূলে গ্রহণযোগ্য।”
নিজ দলের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রসঙ্গে আবু বকর সিদ্দিক বলেন,“আমি ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের দমন-পীড়নের সময় রাজপথে ছিলাম, নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। এখনো দলের প্রতিটি কর্মসূচি মাঠে থেকে পালন করছি। যদি দল আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেয়, ইনশাল্লাহ জনগণের ভোটে জয় নিশ্চিত করব।”
তিনি আরও বলেন,“তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি নতুন, তরুণ নেতৃত্বনির্ভর বিএনপি গড়তে চাই। জনগণ পরিবর্তন চায়— সেই পরিবর্তনের স্রোতের নেতৃত্ব দিতে আমি প্রস্তুত।”
এ সময় তিনি যোগ করেন,“বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই ৩১ দফা নিয়ে জনগণের কাছে যেতে। একটি মানুষের মৌলিক চাহিদা থেকে শুরু করে নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণের প্রতিটি দিক এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত। তাই আমি ইউনিয়নভিত্তিক আলোচনা সভা, কর্মী সমাবেশ ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ৩১ দফার বার্তা নিয়মিতভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি।”
দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য ও জয়নগর ইউনিয়ন শাখার সাবেক সদস্য সচিব গোলাম মোর্শেদ শিবলী বলেন,“রাজশাহী–০৫ আসনে এই কেন্দ্রীয় নেতার মনোনয়ন পেলে বিএনপি শুধু একটি আসন জয় করবে না, বরং তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নতুন উদ্যমে সংগঠিত হবে। আবু বকর সিদ্দিক একজন ত্যাগী, যোগ্য ও কর্মীবান্ধব নেতা। তাঁর নেতৃত্বে দলীয় কোন্দল দূর হবে, নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য ফিরবে এবং বিপুল ভোটে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমানের ৩১ দফা কর্মসূচি দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের বাস্তব রূপরেখা। আবু বকর সিদ্দিক সেই কর্মসূচিকে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তাঁর নেতৃত্বে এই আসনে বিজয় মানে শুধু দলের সাফল্য নয়, বরং জাতীয় অগ্রগতির দৃষ্টান্ত।”
দুর্গাপুর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম রঞ্জু বলেন, “এই আসনে আবু বকর সিদ্দিক ছাড়া ত্যাগী ও যোগ্য প্রার্থী আর কেউ নেই। দুঃসময়ে অন্য কেউ রাজপথে ছিলেন না। আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে তিনি নিজে মাঠে থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন এবং নেতাকর্মীদের সাহস যুগিয়েছেন। তাই আমরা তারেক রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানাই এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে আবু বকর সিদ্দিককেই মনোনয়ন দেওয়া হোক।”
অপরদিকে, পুঠিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলামসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক ছাত্রনেতারা জানিয়েছে, “২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের দাবিতে ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় আবু বকর সিদ্দিক ভাইয়ের দিকনির্দেশনায় আমরা মাঠে ছিলাম। তিনি শুধু নির্দেশ দেননি, নিজেই সামনের সারিতে থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।”
পুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল খালেক মোল্লা বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মী এবং তাদের পরিবারের পাশে ছিলেন আবু বকর সিদ্দিক। তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, আমাদের জন্য একজন অভিভাবক। তাই পুঠিয়া–দুর্গাপুর আসনে ধানের শীষ প্রতীকের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর বিকল্প নেই।”
উল্লেখ্য, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস–এর প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হতে যাওয়া সাবেক ছাত্রদল নেতাদের তালিকায় আবু বকর সিদ্দিকের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশের জাতীয় পত্রিকা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে রাজশাহী–০৫ (পুঠিয়া–দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে একাধিক ব্যক্তির নাম প্রকাশিত হলেও, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস–এর প্রতিবেদনে এককভাবে আবু বকর সিদ্দিকের নামই উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, ২০১৮ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল থেকে একাধিক নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার সময় এ আসনের চারজন সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে আবু বকর সিদ্দিকের নামও ছিল বা তিনি মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
ন.প./রআ…
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST