
অনলাইন ডেস্কঃ
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামি অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে। পরে তাকে আদালতে পাঠিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
রমনা মডেল থানার মামলা নম্বর-১৮, তারিখ ২১ অক্টোবর ২০২৫, দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলায় আশরাফুল হক ডনকে এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
আদালতে দেওয়া পুলিশের প্রতিবেদনে মামলার এজাহারে থাকা ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনাপ্রবাহও তুলে ধরা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ (২৫) বাংলাদেশের স্বনামধন্য চিত্রনায়ক ছিলেন। এজাহারে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সালমান শাহর মা নিলুফার জামান চৌধুরী, নিলা চৌধুরী, বাবা মৃত কমর উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার ১১/বি নম্বর বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেদিন তাদের সিলেট যাওয়ার কথা ছিল।
বাসায় যাওয়ার পর সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা ও কর্মচারী আবুল জানান, সালমান শাহ ঘুমাচ্ছেন। একই সময়ে চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে ওই বাসায় যান। সালমান ঘুমিয়ে আছেন শুনে তার বাবা-মা সামিরাকে জানান, সিলেট যাওয়ার পথে তারা ছেলের সঙ্গে দেখা করে যাবেন। এরপর তারা বাসা থেকে চলে যান।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সেদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান, সালমান শাহর যেন কী হয়েছে।
এ খবর পেয়ে সালমান শাহর মা-বাবা ও ছোট ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা ইস্কাটনের বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তারা সালমান শাহকে শয়নকক্ষে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ওই সময় দুই-একজন বহিরাগত নারী সালমান শাহর হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন। অন্য একটি কক্ষে সামিরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন।
এজাহার অনুযায়ী, সালমান শাহকে ওই অবস্থায় দেখে তার মা চিৎকার করে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেন। এ সময় সামিরার এক পরিচিত ব্যক্তি সালমান শাহর মাকে উদ্দেশ করে ‘You get out from this house’ বলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর সালমান শাহর বাবা-মা তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার মুখমণ্ডল ও পা নীল হয়ে গিয়েছিল বলেও মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে।
পরে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল থেকে সালমান শাহকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে বেশ কিছুক্ষণ আগেই মারা গেছেন বলে জানান-এমনটাই এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতে দেওয়া পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার এজাহারনামীয় আসামি আশরাফুল হক ডন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। রমনা থানার অভিযানের ভিত্তিতে রোববার ভোর ৫টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে।
পুলিশের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ডনকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং পুনরায় পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ। এ কারণে তার জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশরাফুল হক ডনকে জেলহাজতে আটক রাখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST