
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাটঃ সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্ত এলাকা এখন চোরাচালানের নিরাপদ ট্রানজিটে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সুএে জানা গেছে গোয়াইনঘাট থানা এবং হাদারপারের বিট পুলিশ অফিসের প্রত্যক্ষ সহায়তায় প্রতি রাতে ভারত থেকে অবৈধভাবে আসছে গরু, মহিষ, কসমেটিকস ও মাদকদ্রব্যের বিশাল বহর। গভীর রাতে চলে ‘লাইন বাণিজ্য’ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসক যখন বিশ্রামে থাকেন, ঠিক তখনই শুরু হয় চোরাচালানের মহোৎসব। রাত ২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলে এই কর্মকাণ্ড। অভিযোগ রয়েছে, ওসি ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা নিজেদের পকেট ভারী করতে ‘লাইন’ শব্দের আড়ালে গ্রহণ করছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। চোরাচালানি পণ্যগুলো গোয়াইনঘাট থেকে নিরাপদে হরিপুর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে খোদ পুলিশই।নামমাত্র চেকপোস্ট, নেই তল্লাশিচোরাচালান রোধে গোয়াইনঘাট বাইপাসে একটি পুলিশ চেকপোস্ট থাকলেও তা এখন নামসর্বস্ব। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চেকপোস্ট আছে কিন্তু সেখানে কোনো তল্লাশি হয় না। বরং পুলিশের উপস্থিতিতেই চোরাই পণ্যের গাড়িগুলো নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে।সিন্ডিকেটের নেপথ্যে যারাঅনুসন্ধানে জানা গেছে, সীমান্তের বিছনাকান্দি ও হাদারপাড় পয়েন্ট দিয়ে এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন এসআই ফারুকুল ইসলাম ও গোলাম হোসেন। তাদের সাথে মাঠ পর্যায়ে সমন্বয় করছেন যুবদল নেতা হেলাল উদ্দিন ও আব্দুল জালাল।
এছাড়া পান্তুমাই ও হাজীপুর এলাকায় চোরাচালানের নেতৃত্বে রয়েছেন শ্যাম কালা। দীর্ঘ দিন ধরে এই প্রভাবশালী চক্রটি গোয়াইনঘাট সীমান্তকে চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে।বিপাকে সাধারণ মানুষ ও রাজস্ব ক্ষতিপ্রতিদিন রাতে ভারত থেকে আসা শত শত গরু ও মহিষের চাপে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। মাদকের সহজ লভ্যতা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় যুবসমাজ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক মহল।এ বিষয়ে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST