

মোঃ নিশাদুল ইসলাম নিশাদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
আন্তঃনগর ট্রেনে যাতায়াতে চরম বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য তৈরি করছে এক শ্রেণীর বিনা টিকিটের যাত্রী। টিকিট না কেটে ট্রেনে উঠে দায়িত্বরত টিটিই (ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনার) এবং অ্যাটেনডেন্টদের সাথে তর্ক-বিতর্ক, অসৌজন্যমূলক আচরণ ও গালাগালির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এতে করে শুধু রেল স্টাফরাই চরম ক্ষোভ ও মানসিক চাপের মুখে পড়ছেন না, বরং মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বৈধ টিকিটধারী সাধারণ যাত্রীরাও।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটের মহানগর, উপকূল, জয়ন্তিকা, পারাবতসহ বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে প্রায় প্রতিদিনই এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে কসবা, আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব ও নরসিংদী স্টেশন থেকে ওঠা কিছু যাত্রী টিকিট ছাড়াই সংরক্ষিত আসন, এমনকি এসি কম্পার্টমেন্টে জোরপূর্বক উঠে পড়েন। পরবর্তী সময়ে টিটিই কিংবা অ্যাটেনডেন্টরা টিকিট দেখতে চাইলে তারা উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন, অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে সরাসরি বাধা দেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে দায়িত্বরত একাধিক টিটিই ও অ্যাটেনডেন্ট নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাত্রী সেবা দিই। আমাদের কাজ যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত ও শৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু এক শ্রেণীর যাত্রী মনে করেন বিনা টিকিটে ভ্রমণ করাই যেন তাদের জন্মগত অধিকার! টিকিট দেখতে চাইলে তারা ধমক দিয়ে বলেন—’প্রতিদিন যাই, টিকিট লাগে না’। বাধা দিলে অনেক সময় পরিস্থিতি হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। এমনকি এসি কোচে টিকিট ছাড়া উঠে চিৎকার-চেঁচামেচি ও উচ্চস্বরে ফোনে কথা বলে পুরো পরিবেশ নষ্ট করে ফেলে।”
অন্যদিকে ভূক্তভোগী সাধারণ যাত্রীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা কয়েক দিন আগে থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে কিংবা অনলাইনে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ দিয়ে টিকিট কাটেন একটু শান্তিতে যাতায়াত করার জন্য। কিন্তু ট্রেন ছাড়ার পর বিনা টিকিটের যাত্রীদের ভিড় ও হট্টগোলে সেই শান্তির কোনো অস্তিত্বই থাকে না।
রেলওয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “রেল আমাদের জাতীয় সম্পদ এবং এর স্টাফরা সাধারণ মানুষেরই সেবক। যাত্রীরা যদি সচেতন হন এবং টিকিট কেটে ট্রেনে ওঠেন, তবেই যাত্রা সবার জন্য নিরাপদ ও আনন্দদায়ক হবে।”
এদিকে ট্রেনের সার্বিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং বৈধ যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে এই রুটে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও টিকিট চেকিং জোরদার করার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST