
মোঃ নিশাদুল ইসলাম নিশাদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র তিতাসের বুকের ওপর দাঁড়িয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এই জেলার পেট থেকে উত্তোলিত গ্যাসে জ্বলছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাসাবাড়ির চুলা, সচল রয়েছে বড় বড় শিল্প-কারখানা। অথচ প্রদীপের নিচে ঘোর অন্ধকারের মতো সেই গ্যাসের খনির শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষই আজ রান্নার গ্যাসের জন্য তীব্র হাহাকার করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা শহরের বেশিরভাগ এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৈনিক গড়ে মাত্র ২ ঘণ্টা গ্যাস পাওয়া যায়। তাও আবার রান্নার স্বাভাবিক সময়ের সাথে তার কোনো মিল নেই। দুপুরের রান্নার জন্য নির্ধারিত গ্যাস আসে বিকেল সাড়ে ৩টায়, আর রাতের রান্নার গ্যাস মেলে রাত সাড়ে ১০টায়। অর্থাৎ, যখন পরিবারের খাওয়ার সময় পার হয়ে যায়, তখন লাইনে গ্যাসের দেখা মেলে।
শহরের মৌড়াইল, কান্দিপাড়া, পৈরতলা ও কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে চরম ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে পৈরতলা এলাকার এক গৃহিণী বলেন, “মাস শেষে আমরা ঠিকই গ্যাস বিল পরিশোধ করছি, অথচ রান্নার সময় গ্যাস পাই না। শিশুদের স্কুল-কলেজ আর অফিসের মানুষের সময়মতো খাবার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে দুপুরের ভাত রান্না করতে হয় সন্ধ্যায়, আর রাতের রান্না সারতে হয় মধ্যরাতে।”
গ্যাস সংকটে কেবল আবাসিক এলাকার বাসিন্দারাই নন, ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। শহরের জেল রোড ও কোর্ট রোড এলাকার হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং বেকারিগুলোতে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব। নিয়মিত সংযোগে গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে চড়া দামে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে পরিচালন ব্যয় এক লাফে দ্বিগুণ হয়ে গেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকির অভাব ও বিতরণ লাইনে মারাত্মক প্রেশার স্বল্পতার কারণেই এই সংকটের সৃষ্টি। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর প্রশ্ন—”যে জেলা পুরো দেশকে গ্যাস দিয়ে সমৃদ্ধ করছে, সেই জেলার মানুষই কেন গ্যাসের অভাবে ভুগবে? এই বৈষম্যের শেষ কোথায়?”
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য তিতাস গ্যাসের স্থানীয় দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমতাবস্থায়, অবিলম্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরবাসীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সর্বস্তরের জনগণ।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST