
কলকাতা থেকে দেবাশীষ রয়
মহানায়ক উত্তমকুমার স্বয়ং মনে করতেন, ‘দেবদাস’ মানেই প্রমথেশ বড়ুয়া। অসমের গৌরীপুরের বড় রাজকুমার প্রমথেশচন্দ্র বড়ুয়া। হরেক রকমের বন্দুক, তাঁবু, খাবারদাবার কত কী! তবে এই পরিচয়কে ছাপিয়ে গিয়েছিল তাঁর অভিনেতা, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক সত্তা। ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি পুরুষ।
মানুষটি চেয়েছিলেন ডাক্তার হয়ে গরিব প্রজাদের সেবা করবেন। পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী। কলকাতায় হেয়ার স্কুল, প্রেসিডেন্সি কলেজের পড়ুয়া। বিদেশে গিয়ে উচ্চশিক্ষার ইচ্ছে থাকলেও মায়ের আপত্তিতে আর সেটা হল না। কলেজে পড়ার সময়েই শিশির ভাদুড়ীর অভিনয়ে মুগ্ধ হলেন।
‘হাঁ দিদি, এত ভিড় কিসের গো, কে মরেছে?’
যিনি বেরিয়ে আসছিলেন তিনি বললেন, ‘ভিড় হবে না? দেবদাস মরেছে যে গো?’ একটি ছবির অভিনীত চরিত্র আর অভিনেতার এত বড় আইডেনটিফিকেশন যে হতে পারে সত্যিই কল্পনারও অতীত। ১৯৩৫ সালে তিনি বাংলা ও হিন্দিতে পরিচালনা করলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবদাস’। বাংলায় দেবদাসের চরিত্রে তিনি আর পার্বতীর চরিত্রে যমুনা। বুঝতে পারছেন আমরা বলছি ভারতীয় সিনেমার কিংবদন্তি প্রমথেশ বড়ুয়ার কথা।
এরপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। প্রমথেশ বড়ুয়া ক্রমেই ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি হয়েছেন।উত্তমকুমারও মনে করতেন, ‘দেবদাস’ মানেই প্রমথেশ বড়ুয়া। সেদিন ছিল ইংরেজি ক্যালেণ্ডারে ১৯৫১ এর ২৯ নভেম্বর, প্রয়াত হলেন প্রমথেশ বড়ুয়া। তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তে সারা কলকাতা ভেঙে পড়ে প্রমথেশ বড়ুয়ার বাড়িতে, পথে, কেওড়াতলার শ্মশানে-হাজার হাজার লোক জড়ো হয়। চলচ্চিত্র জগতের শিল্পী, কলাকুশলীরা লাইন করে শবানুগমন করেছিলেন । শ্মশানে গিয়ে তারা দেখলেন এত ভিড় যে শবদেহ নিয়ে যাবারও জায়গা নেই। অভিনেতা বিকাশ রায় সেদিন কেওড়াতলা শ্মশানে ছিলেন। প্রচণ্ড ভিড় থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে তাঁর মনে হল হাঁফ ছেড়ে বাঁচা গেল। ঠিক সেই সময়ে বৃদ্ধা দুটির দিকে নজর গেল।
একজন ভিড়ের মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসছিলেন বড়ুয়া সাহেবের মৃতদেহ দেখে, আর একজন ঢুকছিলেন। যিনি ঢুকছিলেন তিনি অপরজনকে দেখতে পেয়ে বললেন,
‘হাঁ দিদি, এত ভিড় কিসের গো, কে মরেছে?’যিনি বেরিয়ে আসছিলেন তিনি বললেন, ‘ভিড় হবে না? দেবদাস মরেছে যে গো?’ গতকাল ছিল প্রমথেশ বড়ুয়ার জন্মদিন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST