
আদালত প্রতিবেদক:
স্ত্রী চাওয়া মাত্রই নির্ধারিত বকেয়া দেনমোহর তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে স্বামী বাধ্য থাকবেন—এমন ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনাসহ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে, দেনমোহর পাওয়ার জন্য স্ত্রীকে বিবাহবিচ্ছেদ বা স্বামীর মৃত্যুর মতো অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।
হাইকোর্টের একক বেঞ্চ থেকে দেওয়া একটি দেওয়ানি রিভিশন আবেদনের পূর্ণাঙ্গ রায়ে উঠে এসেছে এই নজিরবিহীন নির্দেশ। রায়ে উল্লেখ করা হয়, নিকাহনামায় দেনমোহর নির্ধারিত থাকলে আর্থিক অসচ্ছলতার অজুহাত দেখিয়ে কোনো স্বামী এই দায় থেকে পার পেতে পারেন না। এমনকি আইন বা চুক্তির সুনির্দিষ্ট ব্যত্যয় ঘটিয়ে দেনমোহরের পরিমাণ কমানো বা মওকুফ করার কোনো আইনি এখতিয়ারও আদালতের নেই।
পবিত্র কোরআনের সংশ্লিষ্ট আয়াত ও মুসলিম পারিবারিক আইন উদ্ধৃত করে রায়ে বলা হয়, দেনমোহর স্ত্রীর একচ্ছত্র আর্থিক অধিকার। এটি বিয়ে থেকে তৈরি হওয়া একটি আইনি ও ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা। কোনো স্বামী যদি দেনমোহর না দিয়ে স্ত্রীকে আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য করেন, তবে পারিবারিক আদালত পরিস্থিতির ভিত্তিতে স্বামীকে ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা প্রদানের নির্দেশও দিতে পারবে। এছাড়া কেবল স্ত্রী যদি সম্পূর্ণ নিজ ইচ্ছায় ও স্বাধীন সম্মতিতে মওকুফ করেন, তবেই তা গ্রহণযোগ্য হবে—কোনো জবরদস্তি বা মানসিক চাপে তা কার্যকর হবে না।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে ২২ লাখ টাকা দেনমোহরে এক দম্পতির বিয়ে হয়। পরবর্তীতে যৌতুকের দাবি ও কলহের জেরে বিচ্ছেদ ঘটলে স্ত্রী বকেয়া দেনমোহর ও সন্তানের ভরণপোষণ চেয়ে পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। নিম্ন আদালত স্ত্রীর পক্ষে রায় দিলে স্বামী ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণ দেখিয়ে কিস্তিতে দেনমোহর পরিশোধের সুযোগ চেয়ে হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করেন। হাইকোর্ট স্বামীর সেই আবেদন খারিজ করে বকেয়া দেনমোহর ও খোরপোশ অবিলম্বে পরিশোধের নির্দেশনা বহাল রাখেন।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ের মাধ্যমে দেনমোহর পরিশোধ নিয়ে সমাজে বিদ্যমান অস্পষ্টতা দূর হবে এবং আইনি জটিলতা কাটিয়ে নারীদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST