
ইয়াছিন আলী খান,
পৃথিবীতে জলবায়ু পরিবর্তন শীল। জলবায়ু প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হতেই থাকছে যার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা তারতম্য ঘটে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে গরম পড়ছে। এর ফলে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। আর অতিরিক্ত তাপমাত্রা হলে মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আজকের পোস্টটি আমরা জানবো অতিরিক্ত গরমে কি করনীয় :-
গরমের সময় হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে করণীয় –
এই প্রচণ্ড গরমে জীবন যখন অতিষ্ঠ। ডাক্তারি ভাষায় শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট এর উপরে গেলে তখন হিটস্টোক হয়।
যারা অতিরিক্ত গরমে কাজ-কর্ম করে থাকে তাদের হিট স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
আমাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে রক্ত, অতিরিক্ত তাপমাত্রায় কাজ করলে শরীরের রক্তনালী প্রসারিত হয়। এবং শরীর ঘেমে শরীরকে ঠাণ্ডা করে। তাপমাত্রা অধিকহারে কাজ করার ফলে। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ হীন হয়ে পড়ে। এর ফলে হিট স্ট্রোক হয়। আমরা চাইলে খুব সহজেই হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে পারি।
অতিরিক্ত গরমে আমাদের যেসব কাজগুলো করণীয় সেগুলো কয়েকটি পয়েন্ট দেওয়া হলো:-
আমাদের শরীরকে ঠান্ডা রাখা,
শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করা,
পাতলা এবং সুতি কাপড় পরিধান করা,
নিয়মিত গোসল করা,
অতিরিক্ত গরমে ব্যায়াম না করা,
অতিরিক্ত রুদ্র ঘর থেকে বাহির না হওয়া,
সাধারণ পানি স্যালাইন পানি ডাবের পানি বেশি বেশি পান করা।
হাই পাওয়ারের ওষুধ খেলে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে হবে।
গরমের সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।
পরিষ্কার জামা কাপড় পরিধান করতে হবে।
গরমের সময় খাবারের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
উপরের সকল পয়েন্ট গুলো গরমের সময় অবশ্যই মেনে চলতে হবে। তা না হলে আমরা বিভিন্ন সমস্যায় ভুগতে পারি। এর ফলে আমরা হিট স্ট্রোক থেকে মুক্তি পেতে পারি।
হিটস্টোক প্রতিরোধ করার উপায় –
সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চললে হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব। গরমের সময় শরীরকে পানির ঘাটতে হতে না দেওয়া। বাহিরে বের হবার সময় অবশ্যই ক্যাপ বা ছাতা ব্যবহার করতে হবে। মোটা কাপড় পরিধান থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে গরমের সময় সাদা কাপড় বা সুতি কাপড় ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া নিচে কিছু প্রাকৃতিক উপায় দেয়া হলো হিটস্টোক থেকে বাঁচার :-
লেবুর শরবত সেবন করতে হবে। অতিরিক্ত গরমে প্রচুর পরিমাণে লেবুর শরবত সেবন করলে শরীর ঠান্ডা থাকে এরপরে হিটস্ট্রোক থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
বেল শরীর ঠান্ডা করতে লেবু শরবত এর গুরুত্ব অপরিসীম আপনারা চাইলে লেবুর সেবন করতে পারেন শরবত।
অ্যালোভেরা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী । অ্যালোভেরা আমাদের শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে।
হিটস্টক থেকে বাঁচতে হলে ঠাণ্ডা স্থানে অবস্থান করতে হবে।
গরমের সময় আমাদের শরীরে প্রচুর পরিমাণে পানির চাহিদা থাকে, হিটস্টক থেকে বাঁচতে হলে শরীরে পানির চাহিদা পূরণ করতে হবে।
উপরে সকল কথা গুলো মেনে চললে আশা করি আপনারা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
শরীরে অতিরিক্ত গরম লাগার কারণ –
মানবদেহে অতিরিক্ত পানির ঘাটতি এর ফলে গরম লাগে। এছাড়া রক্ত চলাচলে বাধা, মানসিক টেনশন, শরীরের লোমকূপগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে আমাদের প্রত্যেকটি পরিমাণের গরম লেগে থাকে।
গরম লাগার কারণ সমূহ নিচে দেয়া হল:-
শরীরে পানিশূন্যতা,
লোমকূপ বন্ধ হওয়া,
শরীরের চর্বি পরিমাণ বৃদ্ধি বা ওজন বেড়ে গেলে,
মানসিক টেনশন ও উত্তেজিত বেশি হলে।
অতিরিক্ত স্নায়ুচাপ
মানবদেহের উপরের লক্ষণগুলো যদি বেশি হয়ে থাকে তাহলে গরম লাগার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
গরমে কি খেলে শরীর ঠান্ডা হবে –
তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মানব দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। আর এই গরমে নিজেকে ঠান্ডা এবং সুস্থ রাখতে হলে অবশ্যই খাবারের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তাহলে চলুন এবার জেনে নেই গরমে কি খেলে শরীর ঠান্ডা হবে :-
এই গরমে শরীর ঠান্ডা করতে আম খেতে পারেন। আমে রয়েছে ভিটামিন সি ম্যাগনেসিয়াম ও প্রচুর পরিমানের পটাশিয়াম যা আমাদের শরীর কে ঠান্ডা রাখতে সহয়তা করে।
শসা এই তীব্র গরমে মানবদেহের পানির চাহিদা পূরণ করতে সহয়তা করে।
তরমুজ এ ফলে পানির পরিমান খুব বেশি।যা মানব দেহে পানির চাহিদা পূরণ করে থাকে।
পুদিনাপাতা শরীরের ক্লান্তি দুর করে সেই সাথে শরীর কে ঠান্ডা ও করে থাকে। পুদিনা পাতা ভিটামিন এ ভরপুর।
এ প্রচান্ড গরমে শরীর কে ঠান্ডা রাখতে দই খেতে পারেন। দই আমাদের শরীর কে ঠান্ডা রাখতে সহয়তা করে।
নিয়ম মেনে চলুন, নিরাপদে বসবাস করুণ, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST