
লাকী আক্তার,ব্যুরো প্রধান,সিলেটঃ
সিলেটের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়েরকৃত একটি সিআর মামলায় (কোতোয়ালী সিআর মামলা নং ১৭৪৪/২০২৫) জামিন নামঞ্জুর করে রূপালী ব্যাংকের প্রোগ্রামার কামরুল ইসলামকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল ০৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে মাননীয় চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সিলেটের বিচারক মো: মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া এই আদেশ প্রদান করেন।
অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম, পিতা সোলায়মান আলী, মাতা কোহিনুর বেগম। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানার গ্রাম মসিন্দা ও ডাক শিকারপুর। বর্তমানে তিনি সিলেট নগরের সুরমা টাওয়ারে বসবাস করছেন এবং রূপালী ব্যাংকের বিভাগীয় কার্যালয়, মিরাবাজার, সিলেটে প্রোগ্রামার (রেজি: নং ১৩৯৬৪) পদে কর্মরত রয়েছেন।
মামলা দায়েরের পর আদালতের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্ত প্রতিবেদনে পেনাল কোডের ৩২৩, ৩৮৬, ৪০৩, ৪০৬, ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৯৫, ৫০৬ ও ৩৪ ধারার অপরাধগুলোর প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আগের একাধিক স্ত্রী ও সন্তান থাকার তথ্য গোপন করে নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দেওয়া, কাবিননামা জালিয়াতি, প্রতারণাপূর্বক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিক নির্যাতন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে জাল নথিপত্র তৈরি ও সরকারি দলিল টেম্পারিংয়ের মতো গুরুতর নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের প্রমাণ পাওয়ার কথাও জানা গেছে।
ডিবি পুলিশের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত কামরুল ইসলাম এবং তাঁর পরিবারের আরও নয়জন সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর আগে তিনি হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিনে ছিলেন। আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি গতকাল নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালতের শুনানিতে মাননীয় বিচারক তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে সরাসরি জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
পূর্ববর্তী অপরাধ ও পারিবারিক
উল্লেখ্য, কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রীর দায়েরকৃত অন্য একটি নারী নির্যাতন মামলাও (কোতোয়ালি ১৩০০/২৫) চলমান রয়েছে। সেই মামলায় তিনি ৩২৩/৩০৭ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও আপোষের শর্তে বর্তমানে জামিনে আছেন। এছাড়াও তিনি প্রথম স্ত্রীর নারী নির্যাতন মামলায় পূর্বে জেলহাজতে ছিলেন এবং ২য় স্ত্রীর নারী নির্যাতন ও কাবিন জালিয়াতি মামলায় শাস্তিমূলক বদলি ও পাঁচ বছরের জন্য তাঁর পদোন্নতি বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা হেড অফিস থেকে সিলেটে বদলি হয়ে আসেন।
তদন্তে জানা গেছে, কামরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার একটি পরিকল্পিত প্রতারক চক্রের অংশ। তাঁরা উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা বা সম্পদশালী পরিবারের মেয়েদের টার্গেট করে এবং বিয়ের মাধ্যমে জিম্মি করে যৌতুক দাবি ও অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করে। জানা গেছে, তাঁর ২য় স্ত্রী ছিলেন বাপেক্সের জেনারেল ম্যানেজার এবং ৩য় স্ত্রী একজন বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা (৬ষ্ঠ গ্রেড)। এই মামলার মাধ্যমে একজন সরকারি ব্যাংক কর্মকর্তার আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভয়ংকর প্রতারক চক্রের আসল রূপ সামনে এল।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST