
মোঃ রমজান আলীঃ ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মোছাঃ তানজিম সুলতানা মিম— এক অসাধারণ মেধাবী শিক্ষার্থী। এবছর হাজী আলতাব হোসেন হরিণদিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সে জিপিএ-৫ পেয়ে উপজেলায় প্রথম স্থান এবং খুলনা বিভাগ এ ৫ম স্থান অর্জন করেছে। নিজের মেধা ও পরিশ্রমে এলাকার গর্ব হলেও, এখন তার স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক অভাব।
মিমের বাবা মোঃ খাইরুল বাশার একজন নিম্ন আয়ের মানুষ, মা রুজিয়া খাতুন গৃহিণী। পরিবারের সীমিত আয়েই চলছে তাদের নিত্যদিনের জীবনযুদ্ধ। তবুও প্রতিকূলতার মাঝেই মিমের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় তাকে আজকের এই সাফল্যের পথে এনেছে।
“আমি বড় হয়ে একজন ভালো শিক্ষক হতে চাই। শিক্ষার আলো দিয়ে গ্রামের দরিদ্র শিশুদের আলোকিত করতে চাই,”— বলছিল মিম। কিন্তু চোখের কোণে জমে থাকা স্বপ্নের ঝিলিক যেন মলিন হয়ে যায় অর্থনৈতিক বাস্তবতার সামনে।
হাজী আলতাব হোসেন হরিণদিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বলেন, “মিম অত্যন্ত মেধাবী ও শৃঙ্খলাপরায়ণ ছাত্রী। তার ফলাফল আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য গর্বের। কিন্তু পারিবারিক দারিদ্র্যের কারণে তার উচ্চশিক্ষা এখন ঝুঁকির মুখে।”
মিমের সহপাঠী ও এলাকাবাসীও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, “এমন এক মেধাবী মেয়ে যদি অভাবের কারণে পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়, তবে সেটা সমাজের জন্য এক বিশাল ক্ষতি হবে।”
সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রেমী মানুষদের কাছে অনুরোধ— মিমের স্বপ্ন থেমে যেতে দেবেন না। একটু সহায়তার হাতই তাকে পৌঁছে দিতে পারে সেই আলোর মশাল হাতে, যা আগামী প্রজন্মের জন্য দিশারী হবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST