
রাজশাহী প্রতিনিধি:
নিজ কর্মস্থল ফাঁকি দিয়ে রাজশাহীর একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে নারীসহ অবস্থান করার সময় আটক হয়েছেন বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম। নিজেকে ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করা আন্নী আক্তার নামের এক নারীর সরাসরি নজরদারি ও অভিযানে তিনি হাতেনাতে ধরা পড়েন। ইতিপূর্বে একাধিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে সমালোচিত এই পুলিশ কর্মকর্তার এমন কাণ্ডে আবারও পুরো অঞ্চল জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, ওসি মাহবুব নিজ কর্মস্থলে না গিয়ে রাজশাহীর একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে আন্নী আক্তার ওই ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে অবস্থান নিলে ভেতর থেকে মূল দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কোনো উপায় না দেখে আন্নী আক্তার জাতীয় জরুরি সেবা “৯৯৯” নম্বরে কল করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ফ্ল্যাটের লক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ওসি মাহবুব আলম ও তাঁর সাথে থাকা নারীকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পৃথক দুটি কক্ষে রেখে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে ওসি মাহবুব আলম দাবি করেন, তিনি সাথে থাকা নারীকে নতুন করে বিয়ে করেছেন এবং আন্নী আক্তারকে ইতিপূর্বেই ডিভোর্স দিয়েছেন। তবে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সামনে এই নতুন বিয়ের সপক্ষে তিনি কোনো কাবীননামা উপস্থাপন করতে পারেননি। অন্যদিকে আন্নী আক্তার ওসি মাহবুবের এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে জানান, তিনি আজ পর্যন্ত কোনো ডিভোর্সের নোটিশ পাননি এবং আইনিভাবে এখনও তিনি ওসি মাহবুবের বৈধ স্ত্রী।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত ওসির চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন আন্নী আক্তার। একজন প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তার অনিয়ম ধরে ফেলা, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর সঠিক ব্যবহার এবং সাহসিকতার সাথে আইনি লড়াই চালানোর বিষয়টিকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন নেটিজেনরা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন কর্মকর্তার এমন নৈতিক অবক্ষয় ও বহুবিবাহের নথিপত্র নিয়ে অসংগতির ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে প্রশাসনিক মহলেও ব্যাপক তোলপাড় চলছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST