বিশেষ প্রতিনিধি | শনিআখড়া:
দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর শনিআখড়ায় খাবার পরিবেশন করে সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে ‘সূর্যবাণু’ রেস্তোরাঁ। তবে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় শাখা খোলার পর থেকেই সার্ভিস ও খাবারের মানের অভাবনীয় অবনতি ঘটেছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় রেগুলার গ্রাহকরা। গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান ‘দখিনা কিচেন’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাজার একচ্ছত্র পেয়ে সূর্যবাণুর সার্বিক মান ও কর্মচারীদের আচরণে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি এক ভুক্তভোগী গ্রাহক রেস্তোরাঁটির জঘন্য সার্ভিস ও খাবারের নিম্নমান নিয়ে তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, খাবার শেষ করার আগেই কোনো প্রকার সৌজন্যতা না দেখিয়ে ওয়েটাররা তড়িঘড়ি করে বিল হাতে ধরিয়ে দেয় এবং দ্রুত টেবিল ছাড়ার তাগিদ দেয়।
শুধু সেবার মানই নয়, খাবারের ভেতরে অস্বাস্থ্যকর উপাদানের উপস্থিতির অভিযোগও উঠেছে। উক্ত গ্রাহকের ভাষ্যমতে, ১৫০ টাকা দামের হালিম অর্ডার করে সেখানে মাত্র দুটি হাড় ও চর্বি ছাড়া কোনো মাংস পাওয়া যায়নি। এছাড়া গ্রিলের সাথে পরিবেশন করা মেয়োনিজে জীবন্ত পোকা দেখতে পান তিনি। পরবর্তীতে বিষয়টি জানানোর পর মেয়োনিজ পরিবর্তন করে দেওয়া হলেও হালিমের সমস্যার কোনো প্রতিকার করা হয়নি।
খাবারের মান বা সার্ভিস নিয়ে কোনো অভিযোগ জানালে কোনো সুরাহা তো মেলেই না, উল্টো কর্মচারীদের চরম দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়। বিষয়টি ম্যানেজারকে জানানো হলে তিনি উদাসীন কণ্ঠে বলেন, “এমন একটু-আধটু হবেই।” অন্যদিকে সার্ভিস বয়রা গ্রাহকদের ওপর চড়াও হয়ে চিৎকার করে এবং এলাকাভিত্তিক দাপট দেখিয়ে বলে, “আমরা এলাকায় এমনিই ব্যবসা করি।”
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের মতে, মালিকপক্ষ হয়তো কর্মচারীদের এসব অপকর্ম ও অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়ে পুরোপুরি অবগত নন। তবে শনিআখড়ায় এর আগেও ঐতিহ্যবাহী ও বড় বড় অনেক নামী রেস্তোরাঁ কেবল বাজে সার্ভিস ও খদ্দেরদের সাথে খারাপ আচরণের কারণে বাজার হারিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। সূর্যবাণু কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত তাদের সার্ভিসের উন্নয়ন, খাবারের সঠিক মান এবং কর্মচারীদের ব্যবহারে লাগাম না টানে, তবে তাদের পরিণতিও একই হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন গ্রাহকরা।মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST