
স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় দৈনিক অভিযোগ বার্তা ও বার্তা২৪ টিভির জেলা প্রতিনিধি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস’কে গ্রেফতারের হুমকি ও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক বিপ্লব কুমার বিশ্বাস জানান, তিনি শেখ ফিলিং স্টেশন, মোহনপুর এলাকায় তেল সংগ্রহ করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসিল্যান্ড তার সরকারি গাড়িতে তেল নেওয়ার পর অতিরিক্ত ২৫ লিটার তেল পাঁচটি ৫ লিটারের বোতলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক অভিযোগ বার্তা’র জেলা প্রতিনিধি প্রশ্ন করলে এসিল্যান্ড সাংবাদিকের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ও একপর্যায়ে তাকে গ্রেফতারের হুমকিও দেওয়া হয়।
এসময় দৈনিক অভিযোগ বার্তা’র সাংবাদিক বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন,“আমি শুধুমাত্র তথ্য জানার জন্য প্রশ্ন করেছি। কিন্তু তার প্রতিক্রিয়ায় আমাকে ভয় দেখানো হয়েছে এবং আমার পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে।”
এ ঘটনায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান খন্দকার আছিফুর রহমান বলেন, এধরনের আচরন কখনোই আমরা প্রশাসনের নিকট প্রত্যাশা করি না আমি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও সাংবাদিকদের হুমকি -ধামকি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি বরদাশত করবে না।
এসময় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও দৈনিক অভিযোগ বার্তার সম্পাদক এস এম ফিরোজ আহাম্মেদ এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটির মহাসচিব মোঃ সগীর আহামেদ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, প্রশাসনের এমন আচরণ স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকিস্বরূপ আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
পরে স্থানীয় সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের এমন আচরণ স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা মনে করেন, দায়িত্ব পালনের নামে কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তবে তা আইন ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, “Allocation of Business Rules” অনুযায়ী প্রতিটি কর্মকর্তার দায়িত্ব ও ক্ষমতা নির্ধারিত। এর বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক অনিয়ম হিসেবে গণ্য হতে পারে। একইসঙ্গে “General Financial Rules (GFR)” ও নিয়ন্ত্রণ/অডিট নীতিমালার আলোকে দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করলে তা অডিট আপত্তিযোগ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়া সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯ অনুযায়ী মতপ্রকাশ ও সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো সাংবাদিককে তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া বা ভয় দেখানো এই মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৫০৬ অনুযায়ী কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। একইভাবে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা ধারা ৩৭৯ বা ৩৮৪-এর আওতায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে মত দেন আইনজীবীরা।
এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা অথবা প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST