
সিলেট প্রতিনিধিঃ
লুটের পাথর নিজ খরচে ফিরিয়ে দিতে পাথর লুটেরাদের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে পাথর ফিরতে শুরু করেছে। সোমবার (২৫ আগস্ট) পর্যন্ত সাড়ে ৪ লাখ ঘনফুট পাথর নিজ খরচে ফেরত দিয়েছেন লুটপাটকারীরা। এর মধ্যে শুধু সোমবারেই ফেরত এসেছে ২ লাখ ৫০ হাজার ঘনফুট পাথর।
এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেটের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
তিনি বলেন, (রবিবার) পর্যন্ত ২ লাখ ঘনফুট, (সোমবার) আরো আড়াই লাখ ঘনফুট পাথর ফেরত দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হবে।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দায়িত্ব গ্রহণের পর লুট হওয়া পাথর ফিরিয়ে দিতে সময়সীমা বেধে দেন সিলেটের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলম। ওই সময় তিনি বলেন, সময়ের পর কারো কাছে সাদাপাথর পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে মাইকিং করে বিষয়টি জানানো হয়।
দুই দিনে ফেরত আসা সাড়ে ৪ লাখ ঘনফুট পাথরের মধ্যে শুধু কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা থেকে নিজ খরচে ফেরত আসা পাথরের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার ঘনফুট। এর মধ্যে সোমবার এসেছে ১ লাখ ৫০ হাজার ঘনফুট। আগেরদিন রবিবার আসে আরো ৮৫ হাজার ঘনফুট পাথর।ফেরত আসা পাথর প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জের নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিন মিয়া। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ (সোমবার) দেড় লাখ ঘনফুট পাথর ফের এসেছে। এর আগেরদিন আরো ৮৫ হাজার ঘনফুট পাথর এসেছে। এসব পাথর প্রতিস্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের ঘোষনার পর লুটের পাথর ফেরত দিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। নৌকা ও ট্রাকে করে তারা পাথর ফেরত পাঠাচ্ছেন। তবে বেশিরভাগ পাথর ফিরছে ট্রাকে করে। কিন্তু প্রশাসনের জব্দ করা পাথর পরিবহনের পাশাপাশি লুটের পাথরও স্বেচ্ছায় ফেরত দিতে উদ্যোগী হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে ট্রাক সংকট দেখা দিয়েছে।
সিলেট সদর উপজেলার ধোপাগুল এলাকা থেকে পাথর ফেরত দিতে চান এমন একজন নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘শুনেছি নতুন জেলা প্রশাসক খুব শক্ত মানুষ। তাই পাথর ফিরিয়ে দিতে চাই। কিন্তু ট্রাক পাচ্ছি না। আবার বেধে দেওয়া সময়ও ফুলিয়ে যাচ্ছে। কি করব বুঝতে পারছি না।
এদিকে পাথর ফেরত দিতে না পেরে অনেকে ঝুঁকি কমাতে রাতের আধারে ঠেলাগাড়িতে করে আশপাশের বাসাবাড়ির সামনে পাথর ফেলে যাচ্ছেন। এতে করে যেসব বাসাবাড়ির সামনে পাথর ফেলে যাচ্ছেন সেসব বাসাবাড়ির মালিকরাও পড়ছেন বিব্রতকর অবস্থায়।
এ সব তথ্য জানান সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ। তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসন সময়সীমা বেধে দেওয়ার পর অনেকে পাথর ফেরত দিতে উৎসাহ দেখাচ্ছেন। সদর উপজেলার মহালদিক এলাকা থেকে রবিবার ৮ ট্রাক পাথর তারা ভোলাগঞ্জে পাঠিয়েছেন। আরো অনেকেই পাঠাতে চান। কিন্তু ট্রাক সংকট দেখা দেওয়ায় অনেকে পারছেন না। বিলম্ব হচ্ছে।’
এর আগে শনিবার রাত ১০টা থেকে রবিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ মহাসড়কে টানা তল্লাশি অভিযান চালায় সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসন। অভিযানকালে ২৫৫টি ট্রাকে তল্লাশি চালানো হয়।
এর মধ্যে ৭টি ট্রাকে ভাঙা পাথর পাওয়া গেলে সেগুলো জব্দ করা হয়। বাকি ২৪৮ টি ট্রাকে এলসির পাথর থাকায় সেগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ। তিনি বলেন, ‘শনিবার রাত ১০টা থেকে আজ বিকাল ৩টা পর্যন্ত টানা অভিযান করেছেন সদরের এসিল্যান্ড। এতে ৬০ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্য ১০০ ট্রাকে করে পাথর আমরা ভোলাগঞ্জে পাঠিয়েছি। ৫০ হাজার ঘনফুটের উপর পাথর সাদাপাথরে প্রতিস্থাপন হয়েছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST