ফিজিওথেরাপির আড়ালে রিকাবীবাজারে সপ্না-হ্যাপির দেহ ব্যবসা: জিম্মি তরুণীদের কান্নায় ভারী হচ্ছে সিলেটের আকাশ - দৈনিক অভিযোগ বার্তা    
নিউজ এডিটর
২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ফিজিওথেরাপির আড়ালে রিকাবীবাজারে সপ্না-হ্যাপির দেহ ব্যবসা: জিম্মি তরুণীদের কান্নায় ভারী হচ্ছে সিলেটের আকাশ

লাকী আক্তার,ব্যুরো প্রধান, সিলেট

​পুণ্যভূমি সিলেটের পবিত্রতা নষ্ট করে এক শ্রেণীর অসাধু চক্র চিকিৎসার আড়ালে লিপ্ত হয়েছে জঘন্যতম অপরাধে। সিলেটের ব্যস্ততম এলাকা রিকাবীবাজারে ‘সপ্না ফিজিওথেরাপি এন্ড হিজামা সেন্টার’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা। দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই অন্ধকার জগতের রোমহর্ষক সব তথ্য, যার নেপথ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের মূল কর্ণধার সপ্না ও তার সহযোগী হ্যাপি নামের দুই নারীর একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘সপ্না ফিজিওথেরাপি এন্ড হিজামা সেন্টার’ মূলত একটি লোকদেখানো সাইনবোর্ড। ভেতরে চিকিৎসাসেবার কোনো পরিবেশ নেই বললেই চলে। সেখানে নারীদের মাসিক মাত্র ৫,০০০ টাকা বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দরিদ্র ও অসহায় মেয়েরা যখন সচ্ছলতার আশায় এখানে আসে, তখন তাদের ভাগ্যে জোটে এক ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা।

এই অবৈধ ব্যবসার মূল কারিগর হিসেবে উঠে এসেছে সপ্না এবং তার সহযোগী হ্যাপির নাম। চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে তাদের কাজ ভাগ করে নিয়েছে। কাস্টমারদের সাথে দরদাম করা, সময় নির্ধারণ করা এবং বাইরে থেকে গ্রাহক নিয়ে আসার পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করেন হ্যাপি।

হ্যাপী মূলত এই সিন্ডিকেটের ‘পিআর’ বা জনসংযোগকারী হিসেবে কাজ করেন, যাতে মূল হোতারা সহজে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে পারে।অন্যদিকে, সেন্টারের ভেতরে মেয়েদের ওপর চলে সপ্নার নির্মম শাসন। অভিযোগ রয়েছে, কোনো মেয়ে যদি এই অসামাজিক কাজে লিপ্ত হতে অস্বীকার করে বা অনীহা দেখায়, তবে সপ্না তার ওপর চরম মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন। সপ্না মেয়েদের ধমক দিয়ে বলেন, “এখানে কী জন্য আইছিস? কী জন্য আসছিস সেটা মনে রাখ!” এমনকি সপ্না মেয়েদের প্রতিটি মুহূর্তের জন্য ‘ডিট’ বা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেন যাতে তারা চাইলেও এই নরক থেকে বের হতে না পারে। অনেকটা জিম্মি অবস্থায় মেয়েদের এই পথে চলতে বাধ্য করা হচ্ছে।

​টাকার পাহাড় ও শোষণের হিসাব, এই সেন্টারে আসা কাস্টমারদের কাছ থেকে প্রতি ঘণ্টার জন্য ১,৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়। এর বাইরে ভেতরে প্রবেশ করার পর মেয়েদের দিয়ে আরও ৫০০ টাকা বকশিশ আদায়ের এক অলিখিত নিয়ম চালু করা হয়েছে। গ্রাহক যত বেশি সময় অবস্থান করেন, প্রতি ঘণ্টার জন্য ১,৫০০ টাকা হারে তাকে বড় অঙ্কের বিল পরিশোধ করতে হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই আয়ের সিংহভাগই চলে যায় সপ্না ও হ্যাপির পকেটে, আর মূল ভুক্তভোগী মেয়েরা পায় যৎসামান্য।

​এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন,রিকাবীবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় দিনের পর দিন এমন অসামাজিক কার্যকলাপ চললেও প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়রা বলছেন, “সিলেট হচ্ছে আউলিয়াদের পুণ্যভূমি। এখানে ফিজিওথেরাপির নাম দিয়ে এমন কলঙ্কিত ব্যবসা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব টর্চার সেল কীভাবে দিনের পর দিন চলে?”
​ভুক্তভোগী এক তরুণীর স্বজন জানান, “মেয়েদের কাজের কথা বলে এনে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছে। এটি শুধু অপরাধ নয়, এটি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। এই সপ্না ও হ্যাপির মতো অসাধু ব্যক্তিদের কারণে সিলেটের মান-সম্মান আজ ধুলোয় মিশে যাচ্ছে।”

সূত্রে আরও জানা যায়, সপ্না’র ২ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে, ও ১ ছেলেকে ও বিবাহ করিয়েছে।সে হাওয়া পাড়ার আরেন টাওয়ার এ বাসা নিয়ে থাকতো, সেখানেও অবৈধ কর্মকান্ড চালাতো, পুরুষদের নিয়ে। এখন বর্তমান রাজার গল্লি সেখানেও বাসা ভাড়া নিয়ে অপরাধ মূলক কাজ দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে।

আরো জানা যায় যে, সপ্নার ১ মেয়ের স্বামী যুবদল নেতা, সপ্না তার ধাপটে আরো বেশি করে অবৈধ কর্মকান্ড চালায়। সপ্না আরো বলে তার হাত অনেক লম্বা, প্রশাসন ও সালবাদিক’রা তার পকেটে থাকে।
সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ করবে শুনতে পেয়ে অনেক’ কে দিয়ে নিউজ না করার জন্য অবুরোধ, ও সর্বশেষে হুমকিও দেন।
মূলত সপ্নার বড় কুটির জোড় কোথায়? কোন বটবৃক্ষ সপ্নার মাথার উপর রয়েছে, ঠিক এজন্য সপ্না তার থেরাপী সেন্টার ও বাসায় নারী দিয়ে দেহ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

সপ্নার বক্তব্য নিতে গেলে বলেন, সেখানে কোন অপরাধমূলক কাজ চলে না, তিনি আরো বলেন যে, সপ্না ফিজিওথেরাপি সেন্টারে যারা কাজ করে, যেমন আসমা, পলি, এরা নাকি কেউ ওয়াশরুম পরিষ্কার করে, কেউ রুমের মেঝে পরিষ্কার করে, কেউ ভূয়া এসব, তারপর বড় নেতা কজন এর আত্মীয় দাবি করে।

এসময় সিলেটের সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে এই কথিত ফিজিওথেরাপি সেন্টারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হোক,সপ্না ও হ্যাপিসহ এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত প্রত্যেককে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।সিলেটের সাধারণ মানুষের এখন একটাই প্রশ্ন— আর কতদিন এসব আড়ালে চলা অপরাধের রাজত্ব চলবে? পুণ্যভূমি সিলেট কবে হবে সত্যিকারের কলঙ্কমুক্ত?

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফিজিওথেরাপির আড়ালে রিকাবীবাজারে সপ্না-হ্যাপির দেহ ব্যবসা: জিম্মি তরুণীদের কান্নায় ভারী হচ্ছে সিলেটের আকাশ

তনু হত্যার ১০ বছর পর প্রথম আসামি আটক

ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে প্রাক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাক উল্টে ৪ কিমি যানজট

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে তেল পাচারের অপরাধে দুই ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড

তিতাস রক্ষায় সাকার মাছ ধ্বংসের ডাক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৎস্য বিভাগের জরুরি অভিযান

বালিয়াডাঙ্গীতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে পুষ্টি সচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

নাহিদ রানার আগুনে বোলিং কিউইদের উড়িয়ে সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ

দুর্গাপুরে অবৈধভাবে মজুত পেট্রোল জব্দ,ভোক্তা অধিকারের জরিমানা লাখ টাকা

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন তালিকায় নেতাদের স্ত্রী-কন্যারা

১০

ময়মনসিংহ বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত 

১১

বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

১২

দৈনিক অভিযোগ বার্তা নোটিশ/অব্যহতি

১৩

এবার ১৭ দিনের ব্যবধানে আবারও এলপিজির দাম বৃদ্ধি

১৪

নওগাঁয় পুলিশের অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক – ৩

১৫

১২ বছর প্রবাস জীবন শেষে স্ত্রীর প্রতারণায় নিঃস্ব ভোলার বাপ্পি

১৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের কক্ষ থেকে মাদক জব্দ

১৭

ঢাকায় নারীরা আনন্দের জন্য যে জায়গা থেকে পুরষ ভাড়া করে

১৮

স্ত্রীর সঙ্গে রাতে ঝগড়া, ভোরে আত্মহত্যা করেন পুলিশ কনস্টেবল সম্রাট

১৯

জ্বালানি তেলের নতুন দাম মধ্যরাত থেকে কার্যকর

২০

Design & Developed by BD IT HOST