
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার মধ্য জাফলং ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন সংগ্রামপুঞ্জির বাসিন্দা এবং সিলেট জেলা বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক স্টেলিন তারিয়াংয়ের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দৈনিক ‘যুগান্তর’-এর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে গোয়াইনঘাট উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।।
এসময় সরজমিন ঘুরে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,স্টেলিন তারিয়াংকে সারা সিলেট জেলায় একজন সৎ, মানবিক ও ভালো মানুষ হিসেবে তিনি সবার কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন মানুষ , তার রয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক রাজনৈতিক ও পারিবারিক ঐতিহ্য। তিনি ছোটবেলা থেকেই অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন তেমনি খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কাজে অনেক পারদর্শী ছিলেন, ছাএজীবনে শহীদ রাষ্ট্রপতি মরহুম জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক। আর তাই এলাকার সাধারণ মানুষ তার বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা সংবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,স্টেলিন তারিয়াংকে জড়িয়ে সীমান্ত এলাকার চোরাচালানচক্র, সীমান্ত অপরাধ এবং জাফলং নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত বলে যে অপসংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে , তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন , তাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং তার পারিবারিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার এক গভীর ষড়যন্ত্র করছে। তাকে আমরা বহু বছর ধরে চিনি, তিনি কখনোই এ ধরনের নোংরা কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি অএ ইউনিয়নের সকল শ্রেনী পেশা ও ধর্ম-বর্ণের মানুষের বন্ধু স্টেলিং তারিয়াং পারলে মানুষের উপকার করবে, কারও ক্ষতি করতে তাকে কখনো দেখা যায়নি। তাই আমরা গোয়াইনঘাটবাসী অবিলম্বে স্টেলিন তারিয়াংয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে মধ্য জাফলং ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে ও স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
পরে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে স্টেলিন তারিয়াংয়ের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা সংবাদ। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই একটি কুচক্রী মহল এই গ্রুপটি তৈরি করেছে। কোনো ধরনের তথ্য আমার নিকট থেকে না জেনেই এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো প্রতিবেদনে নিরোলা থমসন (জমিদারনী)-কে আমার মা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—যা পুরোপুরি অসত্য। মূলত নিরোলা থমসন আমার মা নন, সম্পর্কে তিনি আমার ফুফু হন।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সব অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমি বা আমার পরিবার কোনো কালেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলাম না। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও অপতথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশ করে আমাকে হেয় করা হচ্ছে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ভবিষ্যতে যারা এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করবেন, তারা যেন উপযুক্ত প্রমাণ নিয়ে সংবাদ প্রচার করেন—সেটি আমি হোন কিংবা অন্য কেউ।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু এলাকাটি সীমান্তবর্তী, সেহেতু এখানে বিভিন্ন সিন্ডিকেট চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। কোন কোন চক্র এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তার সুনির্দিষ্ট তালিকা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছে রয়েছে। সেই তালিকার ভিত্তিতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা উচিত। পাশাপাশি এলাকায় বালু উত্তোলন ও পাথর লুটপাটের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চিরতরে বন্ধ করতে প্রশাসনকে আরও জোরালো ও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে এবং এই অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আটক করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST