
নিজস্ব প্রতিনিধি,সিলেটঃ
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুর চা বাগান ও সংলগ্ন লোকালয়ে বাঘের উপদ্রব ও আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। গত কয়েকদিন ধরে চা বাগানের বিভিন্ন সেকশনে ও আশেপাশের ঝোপঝাড়ে বাঘের উপস্থিতি ও গর্জন শোনার পর থেকে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তার অভাবে বাগানের শ্রমিকরা কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে চা পাতা তোলার স্বাভাবিক কার্যক্রম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীপুর চা বাগানটি ভারত সীমান্ত ঘেঁষা ও পাহাড়ি অঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় প্রায়শই বন্যপ্রাণীর আনাগোনা থাকে। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বাঘের আনাগোনা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যেই চা বাগানের শ্রমিক বস্তি ও সংলগ্ন গ্রামের বেশ কয়েকটি গৃহপালিত গবাদিপশু নিখোঁজ হয়েছে এবং কয়েকটির ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এগুলো ক্ষুধার্ত বাঘের আক্রমণেই ঘটেছে।
বাঘের ভয়ে সন্ধ্যার পর শ্রীপুর চা বাগান ও আশেপাশের গ্রামের মানুষ ঘর থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে যাচ্ছেন না, আর গেলেও দলবেঁধে মশাল বা টর্চলাইট নিয়ে বের হচ্ছেন। এলাকার মসজিদ ও মন্দির থেকে মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবকরা।
শ্রীপুর চা বাগানের পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাঘের আতঙ্কে বাগানের ভেতরের রাস্তাঘাট এখন প্রায় জনশূন্য। শ্রমিকরা যদি ভয়ে বাগানে কাজ করতে না পারেন, তবে তাদের দৈনিক মজুরি ও জীবনযাত্রায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে। তারা অনতিবিলম্বে বন বিভাগকে খাঁচা পেতে বাঘটি খাঁচাবন্দি করে নিরাপদ গভীর অরণ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তারা অবগত আছেন এবং বন বিভাগের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এলাকায় আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং দ্রুতই বন বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST