
মীর শাহাদাৎ, পাবনা:
পাবনা জেলার যমুনা নদীর চরের বুকে শসা আবাদের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করেছে কয়েকজন কৃষক। শসা বিক্রয়লব্ধ অর্থ যেমন তাদের পরিবারে এনেছে খুঁশির আমেজ তেমনি শসার প্রকল্পে কাজ করে স্থানীয় প্রায় ১৫-২০ জন শ্রমিক (নারী-পুরুষ) জীবিকা নির্বাহ করছে। ভবিষ্যতে সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তা পেলে দুর্গম এই যমুনার চরে বানিজ্যিক ভাবে শসা চাষ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়’রা।
জানা যায়, উপজেলার হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়নের যমুনা নদী বেষ্টিত নয়নপুর মৌজার দুর্গম চরে ১৬ বিঘা জমিতে পাঁচজন কৃষক যৌথভাবে হাইব্রিড শসা আবাদ করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। শসা ফলনের পর থেকে ২৫-৩০ দিনে প্রায় ৩হাজার মণ শসা বিক্রয় করেছে তারা। যমুনার চরে উৎপাদিত শসা একদিকে যেমন অত্র এলাকার মানুষের চাহিদা পুরণ করছে।অন্যদিকে প্রতিদিন দূর-দুরান্ত থেকে লোকজন চরাঞ্চলে যাচ্ছেন শসার খেত দেখতে।
যৌথভাবে শসা চাষ প্রকল্পের মূল পরিচালক কৃষক জুলমত সরদার বলেন, আমি, হাজী আবু সামা ফকির, আব্দুল মালেক ফকির, হেকমত ফকির চারজন স্থানীয় কৃষক রইজুল মোল্লাকে নিয়ে ১৬ বিঘা জমি লিজ নিয়ে শসার আবাদ শুরু করি। আশ্বিন মাসে জমি প্রস্তুত করে মাসের শেষের দিকে শসা বীজ বপন করি। বপনের ৩৭ দিন পরেই গাছ থেকে শসা তুলতে শুরু করি। প্রতিদিন গড়ে ১০০ মণ শসা গাছ থেকে তুলে স্থানীয় হাট-বাজারসহ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার লাহিড়ি মোহনপুর ও চরপাড়া নামক স্থানে পাইকারি দরে আড়তে বিক্রি করি।
যৌথভাবে শসা চাষকারী আরেকজন কৃষক জানান, এখন পর্যন্ত ২৫’শ থেকে ৩ হাজার মণ শসা বিক্রয় করা হয়েছে।প্রতিমণ শসা পাইকারি ৭০০-৮০০ টাকা দরে বিক্রয় করেছি।আমরা আশা করছি সকল খরচ বাদ দিয়ে ১৮-২০ লক্ষ টাকা লাভ থাকবে।
শসা প্রকল্পে কাজ করা নারী শ্রমিক ছানোয়ারা,রুবিয়া ও মজিদা বলেন,জুলমত সরদার ভাই’দের শসার খেতে আমরা প্রায় ২০ জন কাজ করি। শসার খেত পরিচর্যা, শসা তোলা ও দেখা-শুনা বাবদ প্রতিদিন আমরা ৩০০ টাকা করে পারিশ্রমিক পাই।
নাকালিয়া বাজারের একজন কাঁচামাল ব্যবসায়ী বলেন,আমরা বেড়া আড়ৎ থেকে কাঁচামাল কিনে এনে বিক্রি করি। আমাদের নাকালিয়ায় শসা উৎপাদন হওয়ায় কম দামে কিনতে পারছি।এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ কম দামে মেডিসিনমুক্ত শসা কিনতে পারছে অন্য ক্রয়মুল্য কম হওয়ায় আমাদের লাভ বেশি হচ্ছে।
এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবির বলেন,আমাদের চরাঞ্চলে শসার ব্যাপক ফলন হওয়ায় আমরা উৎফুল্ল। আগামীতে বানিজ্যিক ভাবে শসা চাষ করতে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতা করা হবে।এছাড়াও উৎপাদিত শসার ন্যায্যমুল্য নিশ্চিতকল্পে বিভিন্ন বাজার ও শপিংমলের সাথে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST