
বিনোদন ডেস্কঃ
ডিজিটাল দুনিয়ার ঝলমলে গ্ল্যামারের আড়ালে অনেক সময় এমন কিছু গল্প লুকিয়ে থাকে, যা কেবল দীর্ঘশ্বাস আর আক্ষেপেরই জন্ম দেয়। বর্তমান সময়ের আলোচিত দুই নাম শিরিন সাইরেন এবং লিয়ানা লাভিংস। হয়তো কোনো এক ঝোঁকের মাথায় বা নিছক শখের বশে তাঁরা এমন এক পথে পা বাড়িয়েছিলেন, যে পথ তাঁদের অর্থ আর পরিচিতি দিলেও কেড়ে নিয়েছে সামাজিক মর্যাদা।
জনপ্রিয়তা ও সামাজিক দ্বিমুখী আচরণ সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই দুই নাম এখন অনেকের কাছেই পরিচিত। তাঁদের ভিডিও বা কন্টেন্ট মানুষ নিভৃতে ঠিকই দেখে, কিন্তু জনসমক্ষে তাঁদের নিয়ে হাসাহাসি আর উপহাস করতে দ্বিধা করে না। এই যে সমাজের দ্বিমুখী আচরণ—একদিকে গোপন আসক্তি আর অন্যদিকে প্রকাশ্য অবজ্ঞা—এটি একজন মানুষকে ভেতর থেকে কতটা নিঃস্ব করে দেয়, তা কেবল তাঁরাই জানেন। কুখ্যাতি যখন জনপ্রিয়তার ছদ্মবেশে আসে, তখন তা সাময়িকভাবে আনন্দ দিলেও দীর্ঘমেয়াদে মানসিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রশ্ন জাগে, এই পথে যাওয়া কি তাঁদের ঠিক হয়েছিল? জীবনের কঠিন সময়ে বা মোহের বশে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো অনেক সময় মানুষের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়ায়। শখের বশে শুরু করা কাজটি যখন পেশায় রূপ নেয় এবং তাতে ‘অন্ধকার’ তকমা লেগে যায়, তখন সেখান থেকে ফেরাটা হিমালয় জয়ের মতোই কঠিন হয়ে পড়ে।
মানুষ ভুল করতেই পারে, আর ভুলের পর সঠিক পথে ফেরার অধিকার সবার আছে। কিন্তু আমাদের সমাজ কি তাঁদের সেই সুযোগ দেবে? যেখানে ইন্টারনেটের মেমোরি কখনো মোছে না, সেখানে অতীতের ছায়া থেকে বের হয়ে আসাটা এক অসম লড়াই। তবে সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফেরা সম্ভব, যদিও সেই পথটি হবে অত্যন্ত বন্ধুর।
শিরিন সাইরেন কিংবা লিয়ানা লাভিংসদের এই জীবন কাহিনী আমাদের এক গভীর বার্তা দেয়। সস্তায় পাওয়া আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার চেয়ে আত্মসম্মান নিয়ে সাধারণ জীবন কাটানো অনেক বেশি শান্তিময়। ভুল পথে পা বাড়ানোর আগে ভাবা উচিত, সেই পথ শেষ পর্যন্ত আমাদের কোথায় নিয়ে ঠেকাবে। কারণ, গ্ল্যামারের চাকচিক্য একদিন শেষ হবেই, কিন্তু সম্মানহীনতার গ্লানি থেকে যায় চিরকাল।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST