রাজশাহীর পদ্মা নদীতে দেখা মিললো মিঠা পানির কুমির - দৈনিক অভিযোগ বার্তা    
নিউজ এডিটর
২০ অক্টোবর ২০২৫, ৬:৫৯ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহীর পদ্মা নদীতে দেখা মিললো মিঠা পানির কুমির

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর পদ্মার চরে পাখির ছবি তুলতে বেরিয়েছিলেন এক পাখিপ্রেমী দম্পতি। তাঁরা দেখা পেয়েছেন কুমিরের। তা–ও আবার মিঠাপানির কুমির। প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাগুলোর জোট আইইউসিএন বাংলাদেশে এই কুমিরকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটে এই ঘটনা। পাখির বদলে কুমিরের ছবি নিয়ে বাড়ি ফেরেন ইমরুল কায়েস-উম্মে খাদিজা ইভা দম্পতি।

গরু চরাতে গিয়ে সেদিন দুপুরে রাজশাহীর ষাটবিঘা চরের রাজু আহাম্মেদ প্রথম কুমিরটি দেখতে পান। রাজু জানান, কুমিরটি চরে উঠে এসেছিল। পানি থেকে তিন-চার হাত দূরে। তিনি তখন মুঠোফোনে গান শুনছিলেন। গান বন্ধ করে ছবি তুলতে গেলেই কুমিরটি পানিতে নেমে যায়। অনেকক্ষণ পর নিশ্বাস নেওয়ার জন্য একবার শুধু মুখ বের করেছিল। রাজুর সঙ্গে বন বিভাগের কর্মী সোহেল রানার পরিচয় রয়েছে। তিনি তাঁকে ফোন করে এই খবর দেন। এরপর রাজশাহী বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্য প্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির ফোন করেন ইমরুল কায়েসকে।

ইমরুল ও খাদিজা দম্পতির বাড়ি নগরের কাজীহাটা এলাকায়। সেখান থেকে অতি কাছেই পদ্মা নদী। নগরের শ্রীরামপুর আই বাঁধ থেকে অপর পাশে পদ্মা নদীতে যে চর পড়ে, সেখানে কাশবনের মধ্যে লাল মুনিয়া দেখা যায়। মুনিয়ার ছবি তোলার জন্য তাঁরা সেদিন সকাল সকাল নৌকা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন।

খাদিজার ভাষায়, রোদের মধ্যে চরে হাঁটতে হাঁটতে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ঘাটের দোকানে এসে চানাচুর, বিস্কুট ও কোমল পানীয় খেতে খেতেই ঘুমে তাঁর চোখ বন্ধ হয়ে আসছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে কায়েসের মুঠোফোনে বন বিভাগের ফোনটা আসে। তারপর ঘুম ছুটে গেল। পাখি বাদ দিয়ে কুমিরের ছবির নেশায় নেমে পড়েন।

উম্মে খাদিজা বলেন, মাথার ওপরে তখন কড়া রোদ। অনেক ক্লান্ত। তবু ভাবছিলেন, এতটা পথ এসে কুমির না দেখে ফিরে যাবেন, তা হয় না। প্রায় হতাশ হয়ে তিনি কায়েসকে বলেন, কুমির মনে হয় এতক্ষণে চলে গেছে। তারপরও থেমে থাকতে পারলেন না। এদিকে তাঁরা যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার সামনের খাঁড়িতে কোমরসমান পানি। তাঁরা স্যান্ডেল খুলে ক্যামেরা মাথার ওপর ধরে খাঁড়ি পার হবেন, ভয়ে ছিলেন কোনোভাবে যাতে পা পিছলে না যায়।

খাদিজা বলেন, খাঁড়ি থেকে ওঠার পর বুঝতে পারছিলেন না আসলে কোন দিকে যাবেন। শেষমেশ না বুঝেই হাঁটা ধরেন, যেদিক দুচোখ যায়। হাঁটতে হাঁটতে একসময় একেবারে ভারতের সীমান্তে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী রাজু আহাম্মেদের বাড়ি খুঁজে পান।

এবার রাজুকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে লাগলেন। যেখানে রাজু কুমির দেখেছিলেন সেই খাঁড়ির কাছে এসে দেখেন কুমির নেই। খাদিজা বলেন, তখন মনটা আরও খারাপ হয়ে গেল। ধপাস করে একটা গাছের নিচে বসে পড়েন।

কিছুক্ষণ বসে থাকার পর কায়েস ড্রোন ওড়ালেন। প্রথমে ড্রোনটা তাঁদের ডান দিকে পাঠালেন। কৌতূহলী হয়ে তিনি কায়েসকে জিজ্ঞেস করলেন, কুমির পাওয়া গেল কি না। কায়েস মাথা নাড়া দিয়ে বোঝালেন কুমির নেই। শুনে তিনি হতাশ হয়ে মাথা নিচু করে বসে থাকলেন। একটু পর কায়েস হুট করে উত্তেজিত হয়ে বলে উঠলেন, ‘পাগলি, কুমির!’ তিনি খুশিতে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। ড্রোন চালু রাখা অবস্থায় দুজনে কুমিরের দিকে হাঁটা ধরেন।

উম্মে খাদিজার ভাষায়, ‘কিছু দূর হাঁটতে হাঁটতে অবশেষে জীবনে প্রথম সামনাসামনি প্রকৃতিতে কুমিরের দেখা পেলাম। কায়েস ড্রোন দিয়ে কিছু ভিডিও নিল। আমি ক্যামেরায় কিছু ছবি তুললাম ও ভিডিও করলাম।’

ইমরুল কায়েস-উম্মে খাদিজা দুজনই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। পেশায় তাঁরা আলোকচিত্রী।

এই কুমিরের বিষয়ে আইইউসিএনের মুখ্য গবেষক এ বি এম সারোয়ার আলম (সীমান্ত দীপু) বলেন, ২০১৫ সালে মিঠাপানির কুমিরকে বাংলাদেশে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। তারপরও পাবনায় একটা দেখা গেছে। অন্য জায়গায় আরও দুটি পাওয়া যায়। এ দুটোকে সুন্দরবনের করমজল সেন্টারে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এগুলো বাংলাদেশের প্রকৃতিতে বেড়ে ওঠা কুমির না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এরা বয়স্ক। ভারতের চাম্বুল নদ থেকে আসতে পারে।

আইইউসিএনের এই গবেষক বলেন, বাংলাদেশে তিন প্রজাতির কুমির রয়েছে। এর মধ্যে লোনাপানির কুমির, যা দেখা যায় সুন্দরবনে; মিঠাপানির কুমির, যা ইতিমধ্যে বিলুপ্ত আর রয়েছে ঘড়িয়াল, যা পদ্মা–যমুনায় দেখা যায়
সুএঃ প্রথম আলো

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বালিয়াডাঙ্গীতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে র‍্যাবের অভিযান আটক ১২ দালাল

অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল বন্ধে পুলিশের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রত্যাহার

দুই হত্যা মামলায় জামিন পেলেন আইভী, তবে মুক্তি মিলছে না এখনই

ওপেক ছাড়ছে আমিরাত: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণ ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার শঙ্কা

হিন্দু–বৌদ্ধ–মুসলিম সবাই মিলে সম্প্রীতির চট্টগ্রাম গড়তে চাই চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

মাদারগঞ্জে আদালতের রায় বাস্তবায়ন: উচ্ছেদ অভিযানে জমি বুঝে পেলেন মুরাদুজ্জামান

শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক লুৎফুর রহমান স্মারকগ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব আয়োজন

মানিকগন্জে ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনিবন্ধিত ঔষধ বিক্রয় রোধে বিশেষ অভিযান

ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা: প্লাবিত হাওরের নিম্নাঞ্চল

১০

জিম্মি করে স্টাম্প পেপারে সই টাকা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ: লিজা চক্রের বিরুদ্ধে

১১

রাজবাড়ীতে মেয়েকে নিয়ে বাড়ির পাশে দোকানে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে বাবার মৃত্যু

১২

রোমানিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুখবর

১৩

এই শহর আমাদের—জনসচেতনতা ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

১৪

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু: পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশ

১৫

জামিনের ১ দিন পর আবার কারাগারে মানিকগঞ্জের সাবেক মেয়র

১৬

মানিকগঞ্জে আবাসিক ফ্ল্যাটে পুলিশের অভিযান: নারীসহ ৫ জন আটক

১৭

নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের শুভসূচনা

১৮

পদ্মা নদীতে এবার বড়শিতে ধরা পরলো কুমির

১৯

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সাথে মালদ্বীপের রাষ্ট্রদুতের সাক্ষাৎকার

২০

Design & Developed by BD IT HOST