
নিজস্ব প্রতিনিধি,জামালপুরঃ
জামালপুর সদর উপজেলার ইটাইল ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে অবৈধভাবে পরিচালিত পুরাতন ব্যাটারি গলানোর কারখানার এসিডে এক কৃষকের চারটি গরুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে আরও আটটি গরু। বুধবারে সকালে এ ঘটনা ঘটলে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৯ জনকে আটক করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,মির্জাপুর এলাকার চান মিয়ার ছেলে আপেল মাহমুদের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ কারখানাটি চলছিলো দীর্ঘদিন ধরে কোনো অনুমোদন ছাড়াই।এখানে পুরাতন ব্যাটারি গলিয়ে সীসা সংগ্রহের কাজ চলছিল। এলাকাবাসী একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে ওই কারখানার বর্জ্য ও এসিড আশপাশের কৃষিজমি ও খালের পানিতে মিশে যায়।
বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় কৃষক হেকমত আলীর ১২টি গরু চরতে গিয়ে এসিডমিশ্রিত ঘাস ও পানি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই একে একে চারটি গরু মারা যায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে প্রাণহীন গরুগুলো উদ্ধার করে। বাকিগুলো বর্তমানে স্থানীয় পশুচিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই অবৈধ ব্যাটারি কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব ছিল। তাদের অভিযোগ, কারখানার মালিক স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না।কারখানাটি থেকে নির্গত ধোঁয়া, দুর্গন্ধ ও রাসায়নিক পদার্থে এলাকাবাসী প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগছে।
এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং কারখানাটি বন্ধের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান। তাদের অভিযোগ, এসব কারখানার কারণে শুধু কৃষিজমিই নয়, আশপাশের পানিও মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে।
নরুন্দি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৬ জনকে আটক করেছে। অবৈধভাবে ব্যাটারি গলানো এবং পরিবেশ দূষণের অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসারও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, এসিডযুক্ত ঘাস ও পানি খাওয়ার কারণেই গরুগুলোর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষক সমাজ বলছে, “আমাদের গরু শুধু সম্পদ নয়, জীবিকার প্রধান ভরসা। এক মুহূর্তে সেই ভরসা হারিয়ে গেল। দোষীদের দ্রুত শাস্তি না দিলে এমন ঘটনা আরও ঘটবে।”
এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দ্রুত সব অবৈধ ব্যাটারি কারখানা বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST