
নিউজ ডেস্ক : বাজারে প্রচলিত ৮টি পাকিস্তানি ও চীনা ব্র্যান্ডের রং ফর্সাকারী ক্রিমে জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক মাত্রার ‘মার্কারি’ বা পারদের উপস্থিতি পেয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংস্থাটি এসব ক্ষতিকর স্কিন ক্রিম বিক্রয়, বিতরণ, মজুদ ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য জরুরি আহ্বান জানিয়েছে।
বিএসটিআই-এর নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী স্কিন ক্রিমে মার্কারির সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ১.০০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন)। তবে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় চিহ্নিত ব্র্যান্ডগুলোতে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বহুগুণ বেশি পারদ পাওয়া গেছে।
বিপজ্জনক পারদযুক্ত ৮টি ক্রিম ও মার্কারির পরিমাণ:
১. ডিউ বিউটি ক্রিম (ক্রিয়েটিভ কসমেটিকস, পাকিস্তান): ১২৩.৩৭ পিপিএম
২. চাঁদনি হোয়াইটেনিং ক্রিম (এস.জে এন্টারপ্রাইজ, পাকিস্তান): ১২০.৩৯ পিপিএম
৩. নুর হোয়াইটেনিং ক্রিম (নুর এন্টারপ্রাইজ, পাকিস্তান): ৮২.৭৬ পিপিএম
৪. নাভিয়া হোয়াইটেনিং ক্রিম (লোয়া ইন্টারন্যাশনাল, পাকিস্তান): ৭৯.৭০ পিপিএম
৫. ন্যাচারাল পার্ল স্কিন ক্রিম (জিএলডিজেবি কসমেটিকস, চীন): ৬৭.৪৯ পিপিএম
৬. নাভিয়া বিউটি ক্রিম (লোয়া ইন্টারন্যাশনাল, পাকিস্তান): ৫৯.৮২ পিপিএম
৭. গৌরি বিউটি ক্রিম (গৌরি কসমেটিকস, পাকিস্তান): ৫৬.৯৩ পিপিএম
৮. নিউ ফেস বিউটি ক্রিম (কিউসিআই কোম্পানি, পাকিস্তান): ৪৪.৭২ পিপিএম
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও চিকিৎসকদের মতামত: চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত মার্কারিযুক্ত ক্রিম ব্যবহারের ফলে ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া এবং অ্যালার্জি থেকে শুরু করে কিডনির মারাত্মক ক্ষতি ও স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতিকর উপাদান অনাগত শিশুর জন্য গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে এবং এসব ক্ষতিকর প্রসাধনী ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST