
নিজস্ব প্রতিনিধি,রাজবাড়ীঃ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় এক ব্যক্তির দাফন নিয়ে তীব্র বিতর্কের জেরে তার কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মৃতের দাফন পদ্ধতি নিয়ে স্থানীয় কিছু মানুষ ও আলেম সমাজের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়, যা শেষ পর্যন্ত এই সহিংস রূপ ধারণ করে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরুল হক নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হলে তাকে ইসলামি রীতি অনুযায়ী দাফন করা হয়। কিন্তু তার কবরের ওপর মক্কা শরীফের কাবা ঘরের আদলে রঙ করা হয়, যা নিয়ে স্থানীয় আলেম সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তারা এই কাজকে ইসলাম পরিপন্থী এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে গণ্য করেন। এর প্রতিবাদে ‘ইমাম-আকিদা রক্ষা কমিটি’ গঠন করা হয় এবং তারা গোয়ালন্দ উপজেলা মডেল মসজিদ ও রাজবাড়ী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের কাছে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবি জানান।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) দুপুরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় আলেম সমাজের দাবির প্রেক্ষিতে কোনো সমাধান না হওয়ায় ক্ষুব্ধ জনতা একত্রিত হয়ে নুরুল হকের কবরে হামলা চালায়। তারা কবর থেকে তার লাশ উত্তোলন করে এবং সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই নজিরবিহীন ও বর্বরোচিত ঘটনার ভিডিও এবং ছবি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। তবে এই ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে খুবই বিরল এবং তা সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এই ঘটনাটি একটি দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই ধরনের চরমপন্থী কর্মকাণ্ডকে কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে এখন জনমনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST