
অভিযোগ বার্তা ডেস্কঃ
প্রায় ২,৫০০ বছর আগে বৈশালীর এক আম গাছের নিচে শিশুকে পাওয়া গিয়েছিল। নাম রাখা হয় আম্রপালী ‘আম’ ও ‘পল্লব’ মিলিয়ে, অর্থাৎ ‘আমগাছের কচি পাতা’। কে জানত, এই শিশু একদিন হয়ে উঠবে ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত নারী!
তিনি ছিলেন অনিন্দ্য সুন্দরী, অতুলনীয় নর্তকী। তার রূপে পাগল ছিল ভারত বর্ষের রাজারা। বৈশালীর গণ্যমান্যরা সবাই মিলে ঘোষণা করেছিল,এই নারী হবেন নগরবধূ। অর্থাৎ, কারও ব্যক্তিগত মালিকানা নয়, বরং পুরো নগরের জন্য। রাষ্ট্রীয়ভাবে পতিতা বানানোর এতো নির্মম উদাহরণ ইতিহাসে খুব কমই আছে তখন সেই নর্তকী যার নাম আম্রপালী সে তখন কিছু শর্ত দিলো এবং যা আম্রপালী নিজেই সেই পাঁচটি শর্তে রাজি হন নর্তকী হতে-
১️-নগরের সেরা স্থানে তার বাস।
২️-প্রতি রাত্রির মূল্য ৫০০ স্বর্ণমুদ্রা।
৩️-একবারে একজনই প্রবেশ করতে পারবে।
৪️- অপরাধী খোঁজার নামে সপ্তাহে একবারের বেশি নয়।
৫- কে আসল বা গেল—জিজ্ঞেস করা নিষেধ।
পরে তিনি নর্তকী হয়ে ধীরে ধীরে হয়ে গেলেন অঢেল ধনসম্পদের অধিকারী। তার রূপের খ্যাতি ছড়ািয়ে পড়ে দূরদূরান্তে। মগধরাজ বিম্বিসার পর্যন্ত ছদ্মবেশে তাকে দেখতে আসেন। আম্রপালী প্রথম দেখাতেই চিনে ফেলেন রাজাকে। প্রেম স্বীকার করেন, কিন্তু রাজা হতে চাননি কারণ হতে পারত রক্তপাত। বিম্বিসার ফিরে গেলেও তার পুত্র অজাতশত্রু আম্রপালীর প্রেমে পড়েই পিতাকে বন্দি করে সিংহাসন দখল করেন!
সব নাটকীয়তার শেষে যখন আসেন গৌতম বুদ্ধ। তখনই ঘটে চরম মোড়। এক তরুণ সন্ন্যাসীকে দেখে আম্রপালীর মনে ধরে। তাকে জেতাতে চাইলেন, মোহিত করতে চাইলেন। কিন্তু পারলেন না। এই প্রথমবার কোনো পুরুষকে নিজের করে পেতে ব্যর্থ হলেন বৈশালীর নগরবধূ আম্রপালী!
শেষমেশ নিজেই সব ত্যাগ করে বুদ্ধের শরণাপন্ন হলেন। পরিণত হলেন একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুণীতে।
আজ যেই “আম্রপালী” আম আমরা মিষ্টির জন্য পছন্দ করি, জানবেন—তার নামও এক মহীয়সী নারীর স্মরণে! যে নারী ইতিহাসে পতিতা রূপে নয়, সাহস, আত্মত্যাগ আর আত্মবোধের প্রতীক হয়ে বেঁচে আছেন নিজের কর্মে।
সংকলনেঃ এস এম ফিরোজ আহামেদ
সম্পাদক, দৈনিক অভিযোগ বার্তা
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST