
লাকী আহমেদ সিলেট ব্যুরো প্রধানঃ
সিলেটের কানাইঘাটের লোভাছড়া পাথর কোয়ারিতে নিজস্ব স্টক দেখিয়ে ছাতকের এক পাথর ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। টাকা ফেরত চাইলে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী হাজী বুলবুল আহমেদ অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী হাজ্বী বুলবুল আহমেদ সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত ফরিদ উদ্দিনের ছেলে। মিজানুর রহমানের ছেলে মমিনুর রহমান পাটোয়ারীর সাথে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,মোঃ রানা মিয়া ও মমিনুর রহমান পাটোয়ারী অত্যন্ত সুকৌশলে বুলবুল আহমেদ ও তার ছোট ভাই মসরু মিয়ার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন।তারা নিজেদের ধার্মিক ও আলেম হিসেবে জাহির করে তাদের বিশ্বাস অর্জন করেন। এরপর কানাইঘাটের লোভাছড়া পাথর কোয়ারিতে তাদের বিশাল পাথরের ‘ভুয়া স্টক’ আছে বলে দাবি করেন।
তাদের কথায় সরল বিশ্বাসে বোল্ডার পাথর ক্রয়ের উদ্দেশ্যে বুলবুল আহমেদ ‘সিয়াম এন্টারপ্রাইজ’-এর উত্তরা ব্যাংক ছাতক শাখার (হিসাব নং-০৭……….৯০) হতে প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মায়মুনা এন্টারপ্রাইজ’-এর পূবালী ব্যাংক হিসাবে (হিসাব নং-০৪৯…….৬৯৬) গত বছরের ৮ মে ১০ লক্ষ টাকা এবং ২৬ মে আরও ৩ লক্ষ টাকা প্রদান করেন। এভাবে ধাপে ধাপে তারা কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।
দীর্ঘদিন পার হলেও পাথর সরবরাহ না করায় বুলবুল আহমেদের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে,কথিত ওই কোয়ারি বা পাথরের স্টকের কোনো অস্তিত্ব নেই। জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পর বুলবুল আহমেদ তার পাওনা টাকা ফেরত চাইলে মোঃ রানা মিয়া ও মমিনুর রহমান তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। বুলবুল আহমেদ বিচার প্রার্থী হলে যুব দল নেতা রুজেল চৌধুরী বিষয়টি মিমাংসার আশ্বাস দেন।
মাস দু’এক যুবদল নেতার আশ্বাসে বিষয়টি মিমাংসার আশ্বাস থাকলেও পরবর্তী বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল, এই যুবদল নেতার নেতৃত্বে বিভিন্ন জনের ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে চলছে লক্ষ কোটি টাকার প্রতারনার বানিজ্যে।উক্ত ছাত্র দল নেতা বিভিন্ন সময়ে উচ্চ পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের নাম ভাংগিয়ে ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের প্রতারিত করে বাহুর জোরে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়,শিবগঞ্জ সাদিপুরের স্থায়ী বাসিন্দা রুজেল আহমেদ চৌধুরী সিলেট ঐতিহ্য বাহী ছাত্র দলের সাবেক ছাত্র নেতা ও বর্তমানে যুবদল নেতা।বিগত আওয়ামী লীগ আমলে ২৩ং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রকিব তুহিন এর সাথে ছিলো হরদম মহরম। উক্ত পাথর সিন্ডিকেট চালিয়ে রুজেল চৌধুরী একরকম দলীয় কোনঠাসা হলেও ভুক্তভোগীরা যাবে কোথায়?
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাণনাশের হুমকির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, মোটা অঙ্কের টাকা হারিয়ে এবং জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী হাজ্বী বুলবুল আহমেদ। তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST