
মোহাম্মদ আনিছুর রহমান ফরহাদ চট্টগ্রাম ব্যুরো:
নগরীতে সাম্প্রতিক রেকর্ড বৃষ্টিপাতের ফলে নগরীর যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, সেসব স্থানের জলাবদ্ধতার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।
এজন্য নগরীর জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে সমস্যা নিরূপণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মঙ্গলবার আগ্রাবাদ চৌমুহনীস্থ চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয় এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় সাম্প্রতিক রেকর্ড বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণ অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে পরিদর্শন করেন মেয়র।
এসময় চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানকে এই এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনে করণীয় নির্ধারণ করে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন মেয়র। মেয়র বলেন, গত সাত দিনের রেকর্ড বৃষ্টিতে নগরীর যেসব এলাকায় পানি জমেছে, সেসব স্থান আমরা একে একে আইডেন্টিফাই করছি। সরেজমিনে গিয়ে কোথায় কেন পানি উঠছে, তার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। শুধুমাত্র পানি নিষ্কাশন নয়, জলাবদ্ধতার মূল কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা এবং আশপাশের ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে পানি জমার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি স্থানীয় বিভিন্ন খাল, নালা ও ছড়ায় বর্জ্য জমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব স্থানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পরিদর্শনে দেখা গেছে আশপাশের বিভিন্ন গাড়ির শোরুম, টিভি ফ্রিজসহ বিভিন্ন পণ্যের শোরুম থেকে ব্যবহৃত ফোম শিট, ককশিট, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলে দেওয়ার কারণে ড্রেন ও নালাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে সামান্য সময়ের মধ্যেই বৃষ্টির পানি জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি নিজেদের বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে জেল জরিমানাসহ প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নগরীর স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সচেতন হতে হবে।
মেয়র আরও বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই সবাইকে ড্রেন, নালা ও খালে কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি জানান, দেওয়ানহাট আগ্রাবাদ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে নাসির খাল ছড়া এবং লালমিয়া খাল ছড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ জলপ্রবাহগুলো দ্রুত পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব খাল ও ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা, সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান, নারী নেত্রী ফাতেমা বাদশা সহ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ বিভাগীয় কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় রাজনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST