
”বিএনপি’’ও জিয়াউর রহমান
মোঃ গোলাম মোর্শেদ শিবলী
অযোগ্য নেতৃত্ব, নীতিহীন নেতা ও কাপুরুষ রাজনীতিবিদদের সঙ্গে কোনদিন একসঙ্গে হয়ে দেশের কাজে নামতে নেই, তাতে দেশ সেবার চেয়ে দেশ ও জনগণের সর্বনাশই বেশি হয়!
বর্তমান বিএনপি’র রাজনীতি, মেধাশূন্য ব্যক্তিদের দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছে, ফলে দলটির জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও এগোতে পারছে না! দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সাহেব বিশ্বাস করতেন অদক্ষ ১০০ নেতার চেয়ে প্রশিক্ষিত দক্ষ ১০জন নেতা দলের জন্য যথেষ্ট।
ওনার থিউরি বিএনপিকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে!
৯০ এর দশকের আগের নেতৃত্ব ছিল স্কলারশিপ ম্যানদের জন্য (মেধাবীদের)। ৯০ পরবর্তী বিএনপি’র রাজনীতি পরিচালিত হচ্ছে কমপার্টমেন্টাল বা বিপা নেতৃত্বের দ্বারা যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এই দলটির জন্য। একটা প্রতিষ্ঠান যখন ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট দের জায়গায় কম্পার্টমেন্টাল বা বিপা ম্যানদের নেতৃত্ব দেয় সেই প্রতিষ্ঠানের কি অবস্থা হতে পারে বুঝুন।
যে সকল নেতারা বিএনপির আদর্শ না বুঝে দল করেন সে সকল নেতাদের কাছ থেকে দল বা দেশ কি আশা করতে পারেন বিচার আপনাদের ওপর দিলাম। ১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার)বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হয়ে গেল আমি ঐ সমস্ত বডি শো চাপাবাজ, অযোগ্য নেতাদের বলবো অন্ততপক্ষে নিচের লিখা গুলি পড়ে কিছু যোগ্যতা অর্জন করুন।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন।
জিয়াউর রহমান ছিলেন জনগণের হৃদয়ের মানুষ।তিনি ছিলেন কাজের মানুষ সামরিকশৃঙ্খলাকে, সামরিক আবেগকে তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিয়েআসেন। তার দূরদৃষ্টিমূলক, রাষ্ট্রনায়কোচিত কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে প্রথম পা রাখে; বাংলাদেশ পৃথিবীর জাতিগুলোর মিলনমেলায় নিজের নাম উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিতকরে।
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক বিরোধীরা তার সমালোচনা করতেই পারেন। কিন্তু বিশ্লেষকেরা বিনা দ্বিধায় বলবেন, জিয়াউররহমান সমন্বয়ের রাজনীতি, সহনশীলতার রাজনীতি, সমঝোতার রাজনীতি ও বহুদলীয় রাজনৈতিক গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন।গবেষকেরা স্বীকার করেন, জিয়াউর রহমানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তৃণমূল মানুষের অংশগ্রহণে বিশ্বাস করতেন, কঠোর শৃঙ্খলায় বিশ্বাস করতেন এবং নিজেকে দুর্নীতির ঊর্ধে রাখায় বিশ্বাস করতেন। তিনি তরুণ ও মেধাবীদের রাজনীতিতে আগ্রহী করে তোলার প্রচেষ্টা নিয়ে ছিলেন। সব কিছু মিলিয়ে তিনি সেনাপতি থেকে রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ছিলেন। তিনি বন্দুকের যোদ্ধা থেকে কোদালের কর্মী হয়ে দেশ গড়ার জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছিলেন।
আমাদের ইতিহাসের যুগসন্ধিক্ষণের এক ব্যতিক্রমী চরিত্র শহীদ জিয়া। বাংলাদেশের এই অমিততেজা বীর যোদ্ধা রাষ্ট্রনায়ক শুধু এ দেশের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কই নন, আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের একজন কাণ্ডারিও।
জিয়াউর রহমানের মধ্যে অনেক বৈশিষ্ট্য ও গুণের সমাবেশ ছিল। স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সেক্টর কমান্ডার, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি, ইসলামি উম্মাহর ঐক্যপ্রচেষ্টার অগ্রদূত, সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা, তৃতীয় বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা ও আধিপত্যবাদবিরোধী বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং সফল রাষ্ট্রনায়ক।
একাত্তরের ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমানের ‘উই রিভোল্ট’ বলে হানাদারদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে নিজেকে অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করে প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করার দুঃসাহসিক এবং একইসঙ্গে ঐতিহাসিক ঘটনা একটি রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রী এবং তাদের ঘরানার বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে বহুদিন ধরে দুঃসহ এক বোঝার মতো হয়ে আছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের উজ্জ্বল উপস্থিতি খাটো করতে তারা সব সময়ই নানা বিতর্কের অবতারণা করেন। তারা জিয়াকে নিয়ে কূট মন্তব্য করেন। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় এই বীরকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী এবং স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি বলে আখ্যায়িত করতেও কুণ্ঠিত হন না। কিন্তু সত্য ধামাচাপা দেয়া যায় না। তারা মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকাকে যতোই খাটো কিংবা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন, ততোই তা যেন আরও দ্বিগুণ শক্তিতে মাটি ফুঁড়ে বের হয়ে আসছে।
বাংলাদেশেরইতিহাসে তার শাসনামল (১৯৭৫-১৯৮১) এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। রাষ্ট্রপতিহিসেবেজিয়াউর রহমান বহুবিধ সাফল্যের অধিকারী। স্বল্পসময়ের শাসনামলে নানা সঙ্কটে বিধ্বস্ত বাংলাদেশকেউন্নতিও সমৃদ্ধিরএক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত করে জিয়া ইতিহাসে নিজেরঅক্ষয় স্থাননিশ্চিতকরেন।বাংলাদেশেবহুদলীয়ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন, সময়োপযোগী গতিশীল পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণেরমাধ্যমে বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র অবস্থান ও গতিপথ নির্ধারণএবংআঞ্চলিকপর্যায়ে সহযোগিতার পথনির্দেশ শহীদ জিয়ার অন্যতম অবদান।
বাংলাদেশের অগ্রগতিকে থামিয়ে দিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ফলে ১৯৮১সালের ৩০ মে সেনাবাহিনীর একটি কুচক্রী মহল বাংলাদেশের উন্নয়নের মহানায়ক জিয়াউররহমানকে চট্রগ্রামে হত্যা করে। বাংলাদেশ হারিয়েছে স্বাধীনতার ঘোষক, আমরাহারিয়েছিবাংলাদেশি জাতীয়তাবাদেরপ্রাণপুরুষ জিয়াউর রহমানকে।
তার মৃত্যুতে দীর্ঘ ৯ বছরসোনারবাংলা স্বৈরাচারের কবলে পড়ে।থমকে দাঁড়ায় বাংলাদেশেরউন্নতি। প্রেসিডেন্ট জিয়ার গঠিত সেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি) আজওবাংলাদেশের সর্বত্র। বৃহত্তমদলহিসেবে আজ বিএনপিগণতন্ত্র ফিরিয়েআনার লড়াইয়ে লিপ্ত।১৯৯১এসংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়েএনেছিল বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি।ইনশাআল্লাহ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে বিএনপি আবার সফল হবে। দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আন্দোলনের মাধ্যমে হারানো ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং বাক-ব্যক্তি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা সহ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জনগণের মানবিক মর্যাদা সুরক্ষা করাই হোক প্রতিষ্ঠা বাষির্কিতে আমাদের শপথ।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST