
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
এক সময় রিকশা চালিয়ে কোনোমতে সংসার চলত আবদুল কাদেরের। কঠোর পরিশ্রমের পরও জীবনে স্বচ্ছলতা আসছিল না। সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র পাল্টে গেছে। এখন চিতই পিঠা বিক্রি করেই প্রতি মাসে আয় করছেন প্রায় এক লাখ টাকা।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কাদের বর্তমানে এলাকায় একজন সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত।
প্রতিদিন একসঙ্গে সাতটি চুলায় চিতই পিঠা তৈরি করেন কাদের। স্ত্রী রুবি আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রতিদিন ৮০০-১০০০ টি চিতই পিঠা তৈরি ও বিক্রি করেন। সাধারণ চিতই পিঠা প্রতিটি ১০ টাকায় এবং ডিম ও মশলা দিয়ে তৈরি বিশেষ ডিম চিতই পিঠা বিক্রি হয় ৩০ টাকায়। পিঠার সঙ্গে ধনেপাতা, সরিষাবাঁটা, শুঁটকি ভর্তাসহ নানা ধরনের ভর্তা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। ক্রেতারা ইচ্ছেমতো যতবার খুশি ভর্তা নিতে পারেন।
আবদুল কাদের জানান, রিকশা চালানোর সময় এক পিঠা বিক্রেতার পরামর্শ এবং তার কাছ থেকে পিঠা বানানোর কৌশল শিখে এই পেশায় আসেন। ২০১২ সালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পিঠা বিক্রি শুরু করেন তিনি। সারা বছরই পিঠা বিক্রি হয় তবে শীত মৌসুমে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়ে থাকে।
বর্তমানে মানিকগঞ্জ বাজার ব্রিজের উত্তর পাশে রাস্তার ধারে তার পিঠার দোকানটি বেশ পরিচিত। প্রতিটি পিঠায় প্রায় চার টাকা লাভ হয়ে থাকে।
তিনি আরও জানান, এই পিঠা বিক্রির আয় দিয়েই শহরের নউখন্ডা এলাকায় সাড়ে পাঁচ শতক জমি কিনে নিজস্ব বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
বিকাল ৩টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত তার দোকানে পিঠা বিক্রি চলে। তবে সন্ধ্যার পর থেকেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। তখন পিঠা কিনতে রীতিমতো লাইনে দাঁড়াতে হয়। অনেকেই দোকানে বসে গরম-গরম পিঠা খান, আবার অনেকে পরিবারের জন্য প্যাকেট করে নিয়ে যান।
আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের বাজার ব্রিজসংলগ্ন গঙ্গাধরপট্টি রোডের পাশে কাদেরের দোকানে পিঠার অপেক্ষায় মানুষের ভিড়। কেউ বসে খাচ্ছেন, কেউ জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়েই পিঠা খাচ্ছেন। আবার অনেকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে পিঠা নিয়ে বাসায় ফিরছেন।
অভাবকে জয় করে আবদুল কাদেরের এই সাফল্য প্রমাণ করে, পরিশ্রম ও সঠিক উদ্যোগ থাকলে ছোট ব্যবসাও বড় স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। তার গল্প নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST