
নিউজ ডেস্ক: প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে এক টুকরো বাংলাদেশ যেন ফিরে এলো সিডনির লাকেম্বায়। ঐতিহ্যবাহী পিঠার ঘ্রাণ, দেশীয় খাবার, গান-নৃত্য আর স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দে শনিবার (৮ আগস্ট) প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল লাকেম্বা। প্রবাসী বাংলাদেশি উইমেন্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পিঠা উৎসব ২০২৬’-এ জড়ো হন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি পরিবার, শিশু-কিশোর ও কমিউনিটির সদস্যরা।
দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা ও দেশীয় খাবারের পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক পর্বে স্থানীয় শিল্পীদের গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনা উৎসবে যোগ করে বাড়তি মাত্রা।
লাকেম্বা দীর্ঘদিন ধরেই সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত ও আবেগঘন স্থান। সেই লাকেম্বায় পিঠা উৎসব ঘিরে তাই শুরু থেকেই ছিল উৎসবের আমেজ। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে অংশ নেন আয়োজনে। বন্ধু, স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে আড্ডা, খাবার আর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় দিনটি হয়ে ওঠে মিলনমুখর।
আয়োজকদের পক্ষে ফয়জুন নাহার পলি জানান, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পরিচিত করে তোলাই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। পিঠা শুধু বাঙালির একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামবাংলার জীবন, পারিবারিক বন্ধন এবং শৈশবের অসংখ্য স্মৃতি।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কমিউনিটির সদস্যদের অনেকেই মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের বাংলাদেশের খাবার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করার ক্ষেত্রে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে এটি কমিউনিটির মানুষকে একত্রিত হওয়ারও একটি আনন্দঘন সুযোগ তৈরি করে।
পিঠা উৎসব ২০২৬ আয়োজনে স্পনসর হিসেবে সহযোগিতা করেছে নিরালা হোল্ডিংসের অন্যতম সেরা প্রকল্প ভার্টিক্যাল ভিলেজ।
কমিউনিটির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
নিরালা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে মো আজহার উদ্দিন জানান, লাকেম্বা অনেক বাংলাদেশির আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাদের মতে, পিঠা উৎসব কেবল বিনোদনের আয়োজন নয়; এটি বাঙালির শেকড়, ঐতিহ্য এবং পারস্পরিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার একটি উদ্যোগ। কমিউনিটির এমন ইতিবাচক আয়োজনে অংশীদার হতে পেরে তারা আনন্দিত এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
আয়োজকদের নিষ্ঠা, স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস পরিশ্রম এবং কমিউনিটির মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি রূপ নেয় প্রাণবন্ত এক মিলনমেলায়। দিনভর উৎসবে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর উপস্থিতিতে লাকেম্বায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। পিঠা ও দেশীয় খাবারের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শনার্থীরা। অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সকল স্পনসর, অতিথি, শিল্পী, স্বেচ্ছাসেবক এবং অংশগ্রহণকারী পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
আয়োজকরা জানান, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা রয়েছে।
লাকেম্বার এই পিঠা উৎসব তাই শুধু একদিনের সাংস্কৃতিক আয়োজন হয়ে থাকেনি—প্রবাসের মাটিতে বাঙালির শেকড়, স্মৃতি ও পারস্পরিক বন্ধনের এক আনন্দময় প্রকাশ হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST