নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন হুমায়ুন কবির। গতকাল ২১ আগস্ট (শুক্রবার) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে তিনি প্রতিম’ন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায়) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। উপদেষ্টা থেকে সরাসরি মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়ে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। একই মন্ত্রণালয়ে আরেক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন শামা ওবায়েদ।
হুমায়ুন কবির সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠেন এবং সেখানেই দীর্ঘদিন বসবাস করেন। যুক্তরাজ্যের কোম্পানি হাউজের রেকর্ড অনুযায়ি তাঁর জন্ম আগস্ট ১৯৭৯ সালে এবং জাতীয়তা ব্রিটিশ। লন্ডনের মিলহারবার এলাকায় তাঁর ঠিকানা রয়েছে। তিনি এইচকেএডি লিমিটেড এবং কেবিআর প্রপার্টি এস্টেটস লিমিটেডসহ একাধিক ব্রিটিশ কোম্পানির সক্রিয় পরিচালক।
শিক্ষাগত জীবনে তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও লিডস ‘ল’ স্কুল থেকে একাধিক মাস্টার্স ডিগ্রি নেন। ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর—বরিস জনসন ও ঋষি সুনাকের আমলে ক্যাবিনেট অফিস ও ন্যায় মন্ত্রণালয়ে কাজ করার।
২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি বি-এনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) নিযুক্ত হন। আ’ওয়ামী লীগ সরকার উৎখাতের পর দেশে ফিরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও তিনি বাংলাদেশের ম’ন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন—এ বিষয়টি ইতোমধ্যে আলোচনায় উঠেছে। সং’বিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকত্ব বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হওয়ার অযোগ্যতার কারণ হতে পারে। তবে তিনি টেকনোক্র্যাট কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। হুমায়ুন কবিরের নিয়োগের পর পররা’ষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দু-জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করবেন।মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST