
বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, প্রতিনিধি।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শ্যামল কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘোষিত আয় ও সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরি থেকে প্রাপ্ত আয় ও ঘোষিত সম্পদের তুলনায় তিনি পাংশা ও রাজবাড়ীতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। এসব সম্পদ ক্রয়ের অর্থের উৎস এবং আয়কর নথিতে সম্পদের যথাযথ ঘোষণা রয়েছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাংশার বারেক মোড় এলাকায় সৈয়দ নুরে আলম ইমরোজের কাছ থেকে পাপড়ি প্লাজার তৃতীয় তলায় ১ হাজার ৬৪৬ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। ফ্ল্যাটটির ক্রয়মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা।
অন্যদিকে পাংশা উপজেলা হাসপাতালের সামনে আব্দুস সামাদ লাল্টুর কাছ থেকে ২০২৩ সালের শেষার্ধে জেএল ১৯১ নম্বর নারায়ণপুর মৌজায় ৫ শতাংশ জমি কেনার তথ্যও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি শতাংশের মূল্য ছিল প্রায় ১২ লাখ টাকা এবং মোট ক্রয়মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা।
অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন ব্যক্তি মারফতে জানাযায়, রাজবাড়ী শহরেও প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের একটি প্লট ক্রয় করেছেন। তবে এ বিষয়ে শ্যামল কুমার বিশ্বাস সরাসরি দাবি করেছেন, “রাজবাড়ীতে আমার কোনো জমি নেই।”
অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার টিআইএন নম্বর ১৬২৬*****১৭৪, ট্যাক্স সার্কেল-০৮ (Salary), কর অঞ্চল-রাজশাহীর তথ্য সামনে এসেছে। আয়করে জমি ও ফ্লাটের তথ্য অপ্রদর্শিত রয়েছে। যা ট্যাক্স বহির্ভূত।
অনুসন্ধানকালে নাম প্রকাশ না করা শর্তে যুব উন্নয়নের এক কর্মকর্তা জানান, খতিয়ে দেখলে দেখা যাবে, যুব ঋণ বিতরণ, প্রকল্প যাচাইয়, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, সরকারি অর্থব্যায়, প্রশাসনিক ও আয়ন ব্যায়াম দায়িত্ব, ঋণ আদায় সহ বিভিন্ন প্রকল্পে নানাবিধ অনিয়ম সিদ্ধহস্ত এই শ্যামল কুমার বিশ্বাস।
শ্যামল কুমার বিশ্বাসের ভাইয়ের সঙ্গে পাট ব্যবসায় সম্পৃক্ততা এবং সেখানে তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে। এমন তথ্য তাঁর ভাইয়ের বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। তার সহদর ভাই জানান, আগে মাঝে মধ্যে ব্যবসায় টাকা দিতেন। বর্তমানে ফ্লাট ক্রয় করার পর এখন টাকা পয়সা দেন না। যাই হোক, আমার দাদার সাথে আপনার কথা বলার ব্যবস্থা করে দেই। বিষয়টা একটু দেখবেন প্লিজ।
শ্যামল কুমার বিশ্বাসের ছেলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন এবং তাঁর শিক্ষাব্যয় ও পারিবারিক জীবনযাপনের ব্যয়ের সঙ্গে তাঁর ঘোষিত আয়ের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
প্রতিবেদনের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পর শ্যামল কুমার বিশ্বাস তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি প্রতিবেদনের প্রকাশ না করা নিয়ে বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে ফোন করে অনুরোধসহ অনুসন্ধানের খরচ ও চা মিষ্টির অফার এবং পরবর্তীতে তিনি নিজে সরাসরি সাক্ষাৎ করার প্রস্তাব দেন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে মুঠোফোনে শ্যামল কুমার বিশ্বাস বলেন, তিনি আত্মীয়-স্বজন, ব্যাংক ঋণ এবং পারিবারিক সঞ্চয়ের মাধ্যমে পাংশার ফ্ল্যাট কিনেছেন। তিনি পাংশার জমি কেনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আয়কর নথিতে ফ্ল্যাট ও জমির তথ্য বর্তমানে উল্লেখ করা হয়নি এবং ভবিষ্যৎ রিটার্নে তা লিপিবদ্ধ করবেন বলে জানিয়েছেন।
রাজবাড়ী শহরে তাঁর কোনো জমি নেই বলেও তিনি দাবি করেছেন। ভাইয়ের পাট ব্যবসায় নিজের বিনিয়োগ থাকার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন। পরবর্তীতে তিনি সাক্ষাৎ করে চা খাওয়ার দাওয়াত দেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST