
ঢাকা প্রতিনিধিঃ
গণতন্ত্রের পথে যাত্রার ক্ষেত্রে নির্বাচনের বিকল্প নেই বলে মনে করছে বিএনপি। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, নির্বাচন তাঁরা চান, কিন্তু তা এখনই করে ফেলতে হবে, তা নয়। ন্যূনতম সংস্কার করে নির্বাচন করলে সমস্যার সমাধান হবে।
গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের ‘গ্রন্থ আড্ডা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাকে অনেকে ভুল বুঝে যে আপনি এত নির্বাচন নির্বাচন করেন কেন? আমাকে বিশেষ করে ছাত্ররা তো বলেই। এখানে নির্বাচন বলার কারণটা হচ্ছে একটাই, আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো নির্বাচিত সরকার কিন্তু অনির্বাচিত সরকারের চেয়ে ভালো। আমি তাদের কাছে যেতে পারি, কথা বলতে পারি। এখন আমার সেই জায়গাটাই নেই।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সংস্কারের প্রস্তাব আসতে শুরু করেছে। আমার বিশ্বাস যে আমাদের প্রধান উপদেষ্টা, তিনি খুব শিগগির এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে আমাদের ডাকবেন, একটা সমাধানের দিকে আসবেন, আলোচনা হবে, ঐকমত্যের ভিত্তিতে আমরা একটা জায়গায় পৌঁছব।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে শহীদ জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী এবং জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনাসভা হয়।
সভায় মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘নির্বাচনটার কথা এ জন্য তাড়াতাড়ি বলি যে নির্বাচনটা হলে দেশের সমস্যাগুলো চলে যাবে। নির্বাচিত সরকার জনরায়ে ক্ষমতায় আসে, অন্তর্বর্তী সরকার তা নয়। তাদের আত্মবিশ্বাস নেই। জনগণের ভাষা বুঝতে হবে।
তিনি এসময় আরোও বলেন, ‘ধৈর্য ধরে সামনের দিকে যাই। অনেক ত্রুটি আছে, আমি বিশ্বাস করি। সরকার অনেক ত্রুটি তুলে নিয়ে এসেছে। একটা জঞ্জালের মধ্যে এসেছে, একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত জঞ্জাল। আমার ধারণা ছিল না যে এত খারাপ হয়ে গেছে। এই পরিবর্তনের পরে আমরা যখন দু-একটা জায়গায় খোঁজখবর নিই, অফিস-আদালতে খোঁজখবর নিই, একটা ভয়াবহ কাণ্ড দুর্নীতি-চুরি ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়া আর কোনো চিন্তা নেই। দুঃখিত, সরকারি আমলাদের মতো বলতে আমি বাধ্য হলাম। এই অবস্থার পরিবর্তনটা তো এক দিনে হবে না, দ্রুত হবে না। ধৈর্য ধরেন, গণতান্ত্রিক একটা কাঠামো খাড়া হোক, সেই কাঠামো দাঁড়ালে নিশ্চয়ই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘এই তো কয়েক মাস হয়েছে। এর মধ্যে সব পাগল হয়ে গেছে। দেখেন, আমাদের এই সরকার অনেক ভুল-ত্রুটি করছে। ভুল তো করবেই। কারণ তারা সরকারে ছিল না। রাজনীতি তো জানে না, বুঝে না।। তাই দেশের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার ‘কার্যকারিতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘মেডিক্যাল কলেজগুলোতে ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট বের হয়েছে। সাড়ে পাঁচ হাজার ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। অন্য শিক্ষার্থীরা কী করবে? সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, হাই স্কুলে লটারি করে ভর্তি হয়। আমি একটি উদাহরণ দিচ্ছি, ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুল, সেখানে লটারি করে ঠাকুরগাঁওয়ের ছেলেরা পরীক্ষা দিয়েছে ক্লাস থ্রিতে, যে ছেলেটা ভর্তি হবে তাকে যেতে হচ্ছে গাইবান্ধা স্কুলে। এটা কোন ব্যবস্থা? কী লাভ এটাতে? কী তৈরি হচ্ছে, আমি কিচ্ছু বুঝতে পারি না। আমি বলব যে একটি উন্মাদনা চলছে শিক্ষার ক্ষেত্রে। এটার ব্যাপারে কেউ দৃষ্টিও দিচ্ছে না, কথাও বলছে না। বিষয়গুলো পরিবর্তন করার জন্য কোনো চেষ্টাও করা হচ্ছে না।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে এই সরকার অনেক সংস্কার কমিশন গঠন করেছে, কিন্তু শিক্ষাবিষয়ক কোনো সংস্কার কমিশন হয়নি। যেটা আপনার আগে প্রয়োজন ছিল, যেটা আগে দরকার ছিল বলে আমি মনে করি। গোটা সমস্যার মূলে ওই জায়গাটা।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি আবদুস সালামের সভাপতিত্বে সাবেক ছাত্রনেতা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারির সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST