
মোঃ রমজান আলী (ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি:-
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর-মহেশপুর) আসনে দলটির ছয়জন মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যদিকে,জামায়াতে ইসলামী অনেক আগেই প্রার্থী ঘোষণা করে এককভাবে মাঠে সক্রিয় রয়েছে।আসনটিতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল,বলয়ভিত্তিক রাজনীতি এবং নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বে বিভক্তি অনেক পুরনো। জুলাই বিপ্লবের পর এই বিভাজন আরও প্রকট হয়। বর্তমানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যক্তিগত বলয় ও অনুসারীদের নিয়ে আলাদা আলাদা গণসংযোগ চলছে।বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, সাবেক এমপি শহিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে ও মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান রনি, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল,কণ্ঠশিল্পী ও সাবেক জাসাস নেতা মনির খান,বিএনপির কৃষক দলের নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোমিনুর রহমান মোমিন এবং কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি কামরুজ্জামান সিদ্দিক।প্রার্থীরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দলের প্রতি দীর্ঘদিনের ভূমিকা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরছেন। তারা আশাবাদী, কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড এসব বিবেচনায় নিয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।
এর মধ্যে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন,দীর্ঘদিন ধরে দল ও আন্দোলনে সক্রিয় থেকে হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। আশা করি দল মূল্যায়ন করবে।মেহেদী হাসান রনি জানান, বাবা শহিদুল ইসলাম তিনবারের এমপি ছিলেন। বাবার ইমেজ ও নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে সফল হতে চাই।কন্ঠশিল্পী মনির খান বলেন,মহেশপুর কোটচাঁদপুরে বিএনপি শক্ত অবস্থানে আছে।দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি।জনগনের দারপ্রান্তে যাচ্ছি বালো সারা পাচ্ছি।দল যাকে মনোনয়ন দিবেন সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষ কে বিজয় করতে হবে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী দলীয়ভাবে অধ্যাপক মতিয়ার রহমানকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয় এই নেতা একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি মাঠে ভালো অবস্থানে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।মতিয়ার রহমান বলেন, এই আসনে জামায়াতের জনভিত্তি ঐতিহাসিকভাবেই শক্তিশালী। সাধারণ মানুষ বিএনপির কোন্দল ও বিভাজনের বিষয়টি বুঝে গেছে।
জানা গেছে, নারীদের ভোট নিশ্চিত করতে জামায়াত নারী নেত্রীদের সক্রিয়ভাবে ঘরোয়া বৈঠক,সভা-সেমিনারে যুক্ত করছে।অন্যদিকে জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই আসনে সাংগঠনিক তৎপরতা চালালেও এখন পর্যন্ত তাদের কাউকে মাঠে গণসংযোগে দেখা যায়নি।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ-৩ আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার বিএনপির শহিদুল ইসলাম জয়ী হন। কিন্তু ২০০৮ সালে তিনি তৃতীয় অবস্থানে চলে যান। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শফিকুল আজম খান চঞ্চল বিজয়ী হন, জামায়াতের মতিয়ার রহমান দ্বিতীয় হন।
বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমান বিভাজনের কারণে আসনটি কার দখলে যাবে, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে দলীয় কর্মীদের মধ্যেই।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST