
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে খনিজ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ‘ওপেক’ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আগামীকাল ১ মে থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৫৯ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কে ফাটল ধরার পাশাপাশি বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা তাদের ‘জাতীয় স্বার্থ’ এবং জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদী রূপকল্পকে প্রাধান্য দিচ্ছে। ২০২৭ সালের মধ্যে তেল উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক ৫০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের, যা ওপেকের বর্তমান উৎপাদন কমানোর নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মূলত তেলের উৎপাদন ও দাম নির্ধারণে সৌদি আরবের একক আধিপত্যের বিরুদ্ধে আবু ধাবি এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই শক্তিশালী দেশের মধ্যকার টানাপোড়েন শুধু তেলের বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই। ইরান-ইসরায়েল চলমান অস্থিরতার মধ্যে আঞ্চলিক নেতৃত্বের লড়াইয়ে আমিরাত এখন রিয়াদের ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজস্ব নীতিতে চলতে চাইছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বড় ধরনের বিনিয়োগ চুক্তি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন আমিরাতের মূল লক্ষ্য।
এদিকে ওপেক ত্যাগের খবরের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও মার্কিন নৌ-বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, গাজা ও লেবানন সীমান্তে তথাকথিত যুদ্ধবিরতির গুঞ্জন থাকলেও পরিস্থিতি এখনো শান্ত হয়নি। ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন ও ইরানের পাল্টা হুমকির ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ওপেকের এই ভাঙন সেই অস্থিরতায় নতুন মাত্রা যোগ করল।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST