মো নিশাদল ইসলাম নিশাদ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ৭ বছরের শিশু মাহিদা আক্তারকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম (২০)। একই ঘটনায় ময়নাতদন্তে শিশুটির শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (পঞ্চম) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন জাহিদুল। পুলিশ জানিয়েছে, জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন।
এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মাহিদার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শাহীন ভূঁইয়া জানান, ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।
চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, মাহিদার মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধ ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের বিষয়টি পাওয়া গেছে। ধর্ষণের ঘটনায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
নিহত মাহিদা আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মো. মোজাম্মেলের মেয়ে। সে স্থানীয় ফাতেমা নূন নেছা মাদরাসার নূরানী দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
অভিযুক্ত জাহিদুল একই গ্রামের মৃত হাফেজ শাহ আলমের ছেলে এবং মাহিদার চাচাতো চাচা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে মাহিদাকে ডেকে নিয়ে যান জাহিদুল। পরে একটি ঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে মাহিদাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা জাহিদুলকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ ঘটনায় মাহিদার পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। শুক্রবার রাতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মাহিদার দাফন সম্পন্ন হয়।
ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST