
লাকী আক্তার,ব্যুরো প্রধান,সিলেটঃ
সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর ভবনে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন নিহত এম এ সাত্তারের মেয়ে সেলিনা সুলতানা (৫৪)। দায়েরকৃত এজাহারে ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামকে মূল পরিকল্পনাকারী ও হুকুমের আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নাম আলোচনায় আসা ‘সেনসেশন’ বাবুল মিয়ার নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বিগত ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সকালে নিজ বাসভবনে প্রবীণ প্রবাসী এম এ সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে দাফন-কাফন সম্পন্ন শেষে ১৪ আগস্ট বাদী থানায় এই অভিযোগ জমা দেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৯৬৭ সালে নিহত এম এ সাত্তার ও তাঁর মেয়ে সিলেট রিকাবী বাজারের সরণপুর এলাকায় ‘পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতি’র নিকট থেকে ১২ শতক ভূমি লিজ নিয়ে ভবন নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিলেন। ২০০৬ সালে ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ভুয়া সাফকবলা দলিল (নং-১৮৫২২/০৬) বানিয়ে উক্ত সমিতিসহ ৮০ শতক জমি নিজের দাবি করে দখলের অপচেষ্টা চালান।
এ নিয়ে ২০১৬ সালে এম এ সাত্তার স্বত্ব মামলা (বর্তমানে স্বত্ব-২১আই/২০২৩) দায়ের করলে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতে একাধিক সিভিল রিভিশন, সিআর মামলা (কোতোয়ালী সিআর ৮১৫/২০২৪, সিআর ১৩৬৪/২০২৩) এবং সিআর ১০৫৭/২০২৫ বিচারাধীন রয়েছে, যা বর্তমানে ডিবি সিলেট তদন্ত করছে।
২৯ জানুয়ারি ২০২৫: অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ও আমিন হোসেনসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বাড়িতে এসে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দেয় ও গালিগালাজ করে।
১৮ মে ২০২৫: আদালত ভবনের সামনে সিরাজুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা মামলার বাদী তৌহিদুল ইসলাম ও এম এ সাত্তারের ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন।
২৮ ও ৩০ জুলাই ২০২৬: সর্বশেষ শুনানির দিনে আদালত প্রাঙ্গণেই এম এ সাত্তার ও তাঁর নিয়োজিত আইনজীবীকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে বাদী দাবি করেন, আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে উক্ত মামলার গুরুত্বপূর্ণ ধার্য তারিখ ছিল। স্বত্ব মামলা থেকে ১৮৫২২/০৬ নম্বর ভুয়া সাফকবলা দলিলটি রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম পূর্বপরিকল্পিতভাবে পেশাদার অজ্ঞাত ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে ১২ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে ঘরে ঢুকে তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটান।
হত্যাকারীরা কেবল তিনটি প্রাণ কেড়েই ক্ষান্ত হয়নি; ঘর থেকে জমি, মামলা ও জিডি সংক্রান্ত যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি ও দলিলপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ এজাহারটি গ্রহণ করে মামলার আইনি প্রক্রিয়া এবং খোয়া যাওয়া নথি উদ্ধারসহ জড়িত পেশাদার খুনিদের সনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST