
বিশেষ প্রতিনিধি,সিলেটঃ
কাগজে-কলমে মাত্র ৩ টন পণ্যের ঘোষণা দিয়ে ৩০ টন কাপড় আমদানির চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে। এই প্রতারণামূলক চালানের মাধ্যমে সরকারের প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ (দেড় কোটি) টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং কেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী ও অসাধু চক্র এই জালিয়াতির নেপথ্যে কাজ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,তামাবিল স্হল বন্দরের কাস্টমস বা শুল্ক কর্তৃপক্ষকে ফাঁকি দিয়ে মোটা অঙ্কের রাজস্ব আত্মসাৎ করাই ছিল এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য। কাস্টমসের নথিপত্রে মাত্র ৩ টন কাপড়ের উপস্থিতি দেখানো হলেও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো তল্লাশিতে পরিহনটি থেকে প্রায় ৩০ টন কাপড় উদ্ধার করা হয়—যা ঘোষিত পরিমাণের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি।
অভিযোগ উঠেছে, বিশাল এই রাজস্ব ফাঁকি সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান কারিগর সিলেট জেলা বিএনপির নেতা শাহপরান এবং যুবদল নেতা মিসবা। তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও ছত্রচ্ছায়াতেই এই আন্তর্জাতিক জালিয়াতি পরিচালিত হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শাহপরান ও মিসবার সাথে কাসেমসহ আরও অন্তত ১৫ জনের একটি শক্তিশালী চক্র এই চালানের সাথে সরাসরি জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে এই অসাধু চক্রটি মিথ্যা ঘোষণা ও ভুয়া তথ্য দিয়ে বিভিন্ন সময় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসছিল। শুধু রাজস্ব ফাঁকিই নয়, এই চক্রটি গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংসহ বিভিন্ন এলাকার পাথর লুটপাট ও অবৈধ ড্রেজিং সিন্ডিকেটের সাথেও সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে পূর্বে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, জালিয়াতির মূলহোতা সিলেট জেলা বিএনপির নেতা শাহপরানের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার পাথর লুটপাটের মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর রাজস্ব প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে চরম তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে অধিকতর তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত শাহপরান, মিসবা ও কাসেমসহ জড়িত ১৫ জনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সচেতন মহল মনে করে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST