অভিযোগ বার্তা ডেস্কঃ
দেশের নির্মাণসামগ্রীর বাজারে জুনের শেষ ভাগে রীতিমতো মূল্যপতন লক্ষ্য করা গেছে। রড ও সিমেন্ট এই দুই প্রধান নির্মাণ উপকরণের দামে মারাত্মক পতন ঘটেছে- যা গত কয়েক মাসের তুলনায় বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চাপে। বিশেষ করে রডের ক্ষেত্রে দাম কমার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই দাম কমার ধারা কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সরকারিভাবে নির্মাণ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর। যদি পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটে, তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম পড়ে গেলে শিল্প খাতেই সংকট তৈরি হতে পারে। জানা গেছে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গত এক বছর দেশে সরকারি বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন কম থাকায় রড-সিমেন্টের বাজারে মন্দা ভাব দেখা দিয়েছে। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার বেছে বেছে সরকারি প্রকল্পের অনুমোদন দিচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, দেশের খুচরা বাজারে জুনের প্রথম সপ্তাহে যেখানে প্রতি মেট্রিক টন ৬০ গ্রেডের রডের দাম ছিল ৯০ হাজার থেকে ৯২ হাজার টাকা, তা এখন নেমে এসেছে ৮২ হাজার থেকে ৮৯ হাজার টাকায়। ফলে টনপ্রতি রডের দাম কমেছে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। গতকাল রাজধানীর বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে তিন ধরনের স্টিল পাওয়া যায়, লো কার্বন স্টিল, মিডিয়াম কার্বন স্টিল ও হাই কার্বন স্টিল। কিন্তু বাড়ি নির্মাণে ৮, ১০, ১২ ও ১৬ মিলিমিটার রড ব্যবহার হয়।এ ছাড়াও বহুতল ভবন নির্মাণে ২৫, ৩২ ও ৪০ মিলিমিটার রড ব্যবহার হয়।
সিমেন্টের দামও কমেছে বস্তাপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, রডের পাশাপাশি সিমেন্টের দামেও বড় রকমের হ্রাস দেখা গেছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বাজারে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর সিমেন্টের দাম বস্তাপ্রতি ৫০০ থেকে ৫৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা গত মাসে ছিল ৫২০ থেকে ৫৮০ টাকা পর্যন্ত। এতে বস্তাপ্রতি গড়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দাম কমেছে।
রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে বিক্রি কমে যাওয়ায় মজুত থাকা পণ্যের দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
নির্মাণসামগ্রীর বাজারে এই মূল্যপতন সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির হলেও উৎপাদন খাতে তা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST