
নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের হাইভোল্টেজ ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের অন্তিম দফার ভোটগ্রহণ শেষ। এখন কেবল অপেক্ষা আগামী ৪ মে-র। ওইদিন সকাল থেকেই শুরু হবে ভোট গণনা এবং স্পষ্ট হয়ে যাবে আগামী পাঁচ বছর বাংলার মসনদে কারা বসতে চলেছেন।
দ্বিতীয় তথা চূড়ান্ত দফায় বাংলার সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে অভাবনীয় ভোট পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গড় ভোটের হার প্রায় ৯২.৬৭%। এর মধ্যে পূর্ব বর্ধমান জেলা ৯৩.৮৩% ভোট দিয়ে শীর্ষ স্থান দখল করেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল জনজোয়ার বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত না কি শাসক শিবিরের প্রতি আস্থার প্রতিফলন, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
ভোট চলাকালীন উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু এলাকা থেকে অশান্তির খবর এসেছে। বুথ দখল ও অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নির্দিষ্ট কিছু বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে ইভিএম কেন্দ্রগুলোতে তিন স্তরের কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
ভোট শেষ হতেই বিভিন্ন সংবাদসংস্থা ও সমীক্ষক দল তাদের বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। সমীক্ষাগুলোতে দেখা যাচ্ছে। কোনো সংস্থা তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের হ্যাটট্রিক দেখছে, আবার কোনো সংস্থা বিজেপি-র ঐতিহাসিক উত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলো এখনই হার মানতে নারাজ। দুই শিবিরই জয়ের বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত।
গণনা চলাকালীন যাতে কোনো কারচুপি না হয়, তা নিশ্চিত করতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি জানিয়েছেন, গণনাকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগ করতে হবে। এই মামলার রায়ের ওপর গণনার দিনের অনেক কিছু নির্ভর করছে।
আগামী ৪ মে সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ইভিএম খোলা। দুপুরের মধ্যেই ট্রেন্ড বোঝা যাবে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজ্যজুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST