প্রকৌশলী ‘নিঃস্ব’, স্ত্রীর তিন ফ্ল্যাট, দুই ছেলে কোটিপতি! - দৈনিক অভিযোগ বার্তা
সেহরির শেষ সময়: ৪:৫১
ইফতারের সময়: ৬:১০
নিউজ এডিটর
১৩ মার্চ ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

প্রকৌশলী ‘নিঃস্ব’, স্ত্রীর তিন ফ্ল্যাট, দুই ছেলে কোটিপতি!

পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ

হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির দায়ের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলীর ব্যাংক হিসাব প্রায় শূন্য। কাগজে-কলমে তিনি প্রায় নিঃস্ব। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবেও তাঁর নামে বড় কোনো সম্পদের খোঁজ মেলেনি।

অথচ তাঁর পরিবারে যেন টাকার ঝর্ণাধারা। গৃহিণী স্ত্রীর নামে একের পর এক ফ্ল্যাট, রয়েছে বাড়ি। এই ঝর্ণাধারা থেকে কলেজপড়ুয়া দুই ছেলে বঞ্চিত হননি। তারাও কোটিপতি। তাদের ব্যাংক হিসাবেও কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে।

এমন বিস্ময়কর হিসাব সামনে এসেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পিরোজপুরের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার হাওলাদার। তার পরিবারকে ঘিরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে টাকার ঝর্ণাধারা খোঁজ মিলেছে।

পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দীন মহারাজের পরিবারের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনেক দিন ধরেই আলোচনায়। এলজিইডি পিরোজপুরের বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহারাজ পরিবার এই অর্থ আত্মসাত করেছিল।

এই দুর্নীতির নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এলজিইডির তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার হাওলাদার। অনুসন্ধান শেষে মামলা দায়েরের পর এমনটাই বলছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মহারাজ পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আটটি মামলারও আসামি তিনি।

তবে অনুসন্ধানে নেমে দুদকের কর্মকর্তারা প্রথমে খানিকটা বিস্মিতই হন। কারণ, প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের নিজের নামে উল্লেখযোগ্য কোনো অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের নামে মিলেছে কোটি কোটি টাকার সম্পদের হিসাব।

দুদকের অভিযোগ, এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ভুয়া কাজ দেখানো এবং ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেই অর্থের উৎস আড়াল করতে পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ গড়ে তোলা হয়।

বুধবার বিকেলে পিরোজপুরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এ ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করেছেন সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক পার্থ চন্দ্র পাল। মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, তাঁর স্ত্রী রীনা পারভীন এবং দুই ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম রিফাত ও ফজলে রাব্বি রিমনকে।

দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী রীনা পারভীন একজন গৃহিণী। তাঁর নিজস্ব কোনো পেশা বা আয়ের উৎস নেই। তবু তাঁর নামেই পাওয়া গেছে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার সম্পদের হিসাব।

পটুয়াখালী পৌরসভার আরামবাগ এলাকায় প্রায় ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে তাঁর নামে নির্মিত হয়েছে একটি তিনতলা ভবন। ঢাকার পান্থপথে ফেয়ার দিয়া কমপ্লেক্সে প্রায় ৪৭ লাখ টাকায় কেনা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট।এর বাইরে পশ্চিম আগারগাঁওয়ের আবেদীন ড্রিমস প্রকল্পে দুটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য প্রায় ২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বিনিয়োগের তথ্যও পেয়েছে দুদক। সব মিলিয়ে জমি, ফ্ল্যাট ও ভবনসহ প্রায় ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে তাঁর নামে।

এর বাইরে ব্যাংক সঞ্চয়, গাড়ি ক্রয় ও ব্যবসার মূলধন মিলিয়ে আরও প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের হিসাব মিলেছে।দুদকের হিসাবে, রীনা পারভীনের গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস মাত্র প্রায় ২০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। ফলে প্রায় ৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার সম্পদ তাঁর জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

স্ত্রীর পর এবার নজর পড়ে দুই ছেলের দিকে। মামলার নথি বলছে, মঞ্জুরুল ইসলাম রিফাত ও ফজলে রাব্বি রিমন সম্পদ অর্জনের সময় দুজনই ছাত্র ছিলেন। তাঁদের কোনো পেশা বা নিজস্ব আয় নেই। তবু তাঁদের নামে রয়েছে কোটি টাকার সম্পদ ও ব্যাংক লেনদেন।দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বড় ছেলে রিফাতের নামে প্রায় ১২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা এবং ছোট ছেলে রিমনের নামে প্রায় ১২ লাখ ৩৮ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রিফাতের নামে প্রায় ৯৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং রিমনের নামে প্রায় ৭৩ লাখ ৫১ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। সব মিলিয়ে দুই ছেলের নামে প্রায় ২ কোটি ৭১ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব উঠে এসেছে।

দুদকের অভিযোগ, অবৈধ অর্থের উৎস আড়াল করতে বড় ছেলে রিফাতের নামে প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং ছোট ছেলে রিমনের নামে প্রায় ৮৫ লাখ টাকার সম্পদ দেখানো হয়েছে।

এমনকি তাঁদের নামে আয়কর নথিও খোলা হয়েছে, যদিও বাস্তবে কোনো আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি।দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে পিরোজপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত ইতিমধ্যে আসামিদের নামে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এখনো নিয়োগ করা হয়নি। সেই প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শুরু হলে আরও সম্পদের তথ্য সামনে আসতে পারে বলেও মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

প্রকৌশলীর নিজের নামে বড় সম্পদের খোঁজ না মিললেও পরিবারের নামে কোটি টাকার হিসাব এখন দুদকের তদন্তের কেন্দ্রে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মোবাইলের লো‌ভে ভয়ঙ্কর মাদক বহন কর‌ছিল যুবতী!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ লক্ষ টাকার ঈদ সামগ্রী পেল ৫শ পরিবার

গাজীপুরে কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

সিলেটে জাতীয় পার্টির ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত

মধ্যপ্রাচ্যে হোটেল ও বাসাবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে হাজারো মার্কিন সেনা, খুঁজছে ইরান

ময়মনসিংহ ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা

ধামইরহাট সীমান্তে ১৭৮ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার 

ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টি, স্কুলছাত্রসহ নিহত ৩

দুপুরে বিয়ে বিকালে মৃত্যু, বর-কনেসহ নিভে গেলো ১৪ প্রাণ

১০

মেলান্দহে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী আকন্দের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়

১১

প্রকৌশলী ‘নিঃস্ব’, স্ত্রীর তিন ফ্ল্যাট, দুই ছেলে কোটিপতি!

১২

পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া লরি উদ্ধার, অক্ষত আছে ২৪ হাজার লিটার তেল

১৩

মুক্তিযোদ্ধাদের দেখানো পথেই এগিয়ে যাবে গণতান্ত্রিক দেশ – সেনাপ্রধান

১৪

চিকিৎসার জন্য মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি

১৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে এসিজি-স্বাস্থ্য এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

১৬

সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে তিনবারের মহিলা কাউন্সিল ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসিমা আক্তার বকুল

১৭

ইরানের খোররামশাহর আক্রমণ ইসরায়েলের প্রধান বিমানবন্দরে

১৮

জামালপুরের দিগপাইতে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে নিয়ে উধাও পুরুষ ছদ্মবেশী সমকামী নারী

১৯

ঈদ শপিং ঘিরে স্বামী- স্ত্রী’র তুমুল ঝগড়া ও রাস্তায় হাতাহাতি- ভিডিও ভাইরাল

২০

Design & Developed by BD IT HOST