
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মানিকগঞ্জ পৌরসভায় উন্নয়ন কাজের বিল পাস করানো নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ ঘুষ বাণিজ্য, হয়রানি এবং নথিপত্র ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী তার বাবা ঠিকাদারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে প্রধান নাম হিসেবে উঠে এসেছে নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল বাতেন এবং মাস্টাররোল কর্মচারী শাকিলের নাম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ পৌরসভার তালিকাভুক্ত ঠিকাদার কিতাব আলী গত ছয় মাস আগে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার ছেলে রুবেল বাবার করা পাঁচটি উন্নয়নকাজের বকেয়া বিল আদায়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভায় ঘুরছিলেন। রুবেলের দাবি, বাবার মৃত্যুর পর প্রকৌশল শাখার কর্মচারীরা প্রতিটি ফাইল ছাড়ানোর নামে ২-৩ হাজার টাকা করে দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিয়ে ফাইল উদ্ধারের পর বিল পাসের জন্য রুবেল সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল বাতেনের শরণাপন্ন হলে তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেনের কাছে পাঠানো হয়।
রুবেলের অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন ১০ লক্ষ ১০ হাজার টাকার পাঁচটি বিলের বিপরীতে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরবর্তীতে মাস্টাররোল কর্মচারী শাকিলের মাধ্যমে কয়েক দফায় মোট ৫০ হাজার টাকা এবং শাকিলকে আড়াই হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
লিখিত অভিযোগে রুবেল উল্লেখ করেন, ঘুষের ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পর নির্বাহী প্রকৌশলী ফাইলে স্বাক্ষর করেন। তবে বাকি টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে উভয়ের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন ফাইলের কার্যাদেশ ছিঁড়ে ফেলেন এবং ফলে ফাইলটি অকার্যকর হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, রুবেলকে পৌরসভায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল বাতেন এর সাথে কথা বলতে গেলে পৌর অফিসে তাকে না পাওয়া মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। এসময় তিনি জানান, ‘‘আমি একটি সাইটে এসেছি। আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি মিথ্যা, রুবেল বিলের জন্য এসেছিল, তাকে নিয়ম অনুযায়ী নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো হয়েছে।’’
অন্যদিকে, প্রধান অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “রুবেলের ফাইলে কোনো কার্যাদেশ ছিল না। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের কাজগুলো হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই। বিল না দেওয়ার কারণে সে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে। ফাইল ছেঁড়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জয়া মারীয়া পেরেয়া জানান, “রুবেলের লিখিত অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করা হবে।”
পৌরসভার উন্নয়ন কাজে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ ঠিকাদারদের হয়রানি বন্ধে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST