
ডেক্স নিউজ :
সিলেটের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ের বিপুল পরিমাণ সরকারি খাস জমি অবৈধ দখলে চলে গেছে। বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন এই জমিতে গড়ে উঠেছে একাধিক বিলাসবহুল রিসোর্ট, গেস্ট হাউজ ও রেস্টুরেন্ট। সম্প্রতি গোয়াইনঘাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক তদন্ত প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর সুপারিশ করা হয়েছে।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাফলং পর্যটন এলাকার সরকারি খাস জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং পর্যটকদের জন্য গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে একটি তদন্ত সম্পন্ন হয়। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং উপজেলা ভূমি অফিসের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গত ২৪ জুন (২০২৬) ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মোনায়েম এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চৈলাখেল ৩য় খন্ড মৌজার এসএ ৫৬ নং দাগে মোট ৮.২৫ একর বাগান শ্রেণির ভূমি মারন খাসিয়ানী নামের এক ব্যক্তির নামে রেকর্ড ছিল। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময় তারা ভারতে চলে গেলে জমিটি ‘অর্পিত ও অনাগরিক’ সম্পত্তির তালিকাভুক্ত (ক গেজেট) হয়। পরবর্তীতে বিএস জরিপে এই জমি ৮০ ও ৮১ নং দাগে বিভক্ত হয়।
বিএস ৮০ নং দাগ: মোট ৫.৬১ একর জমির মধ্যে ৩.৫৯৫ একর জমি বিজিবি (তৎকালীন বিডিআর) ক্যাম্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। অবশিষ্ট ২.০১৫ একর ভূমি বর্তমানে অবৈধ দখলে রয়েছে। বিএস ৮১ নং দাগ: ২.৬৪ একর ‘লায়েক পতিত’ জমি সম্পূর্ণ সরকারি খতিয়ানভুক্ত হলেও তা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখলে চলে গেছে।
৮ জনের দখলে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি:
প্রতিবেদনে মোট ৮ জন মূল দখলদার ও তাদের অবৈধ স্থাপনার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে:
১. জাফলং ভিউ রেস্টুরেন্ট ও দোকানপাট: আব্দুল কুদ্দুছ (নলজুরী) নামের এক ব্যক্তি এখানে একটি রেস্টুরেন্ট, ১৯টি দোকান ও ১টি পাবলিক ওয়াশ রুম তৈরি করে দখলে রেখেছেন।
২. জাফলং ভিউ গেস্ট হাউজ: ফারুক আহমদ (নলজুরী) নামের অপর এক দখলদার ১টি গেস্ট হাউজ ও ৯টি দোকান কোঠা নির্মাণ করেছেন।
৩. প্যারিস রেস্টুরেন্ট ও গেস্ট হাউজ: মোহাম্মদপুরের আনোয়ার হোসেন ওরফে জুবের আহমদ নামের এক ব্যক্তি এটি পরিচালনা করছেন।
৪. জৈন্তা ভ্যালি রিসোর্ট: জৈন্তাপুরের নুরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি রিসোর্ট ও ৪টি দোকান কোঠা তুলেছেন।
৫. জাফলং গ্রীন রেস্টুরেন্ট: লাখেরপাড়ের আলম বখত ১টি রেস্টুরেন্ট ও ৭টি দোকান তুলেছেন।
৬. রয়েল রিসোর্ট: একই এলাকার বাবুল বখত ১টি রিসোর্ট ও ৫টি দোকান অবৈধভাবে নির্মাণ করেছেন।
৭. সীমান্ত রেস্টুরেন্ট: গুচ্ছ গ্রামের রায়হান নামের এক ব্যক্তি রেস্টুরেন্ট ও ২টি দোকান কোঠা তৈরি করেছেন।
৮. পর্যটক ভিউ রেস্টুরেন্ট: লাখেরপাড়ের উমর আলী নামের এক দখলদার ১টি রেস্টুরেন্ট ও ৩টি দোকান কোঠা গড়ে তুলেছেন।
ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে পাঠানো এই প্রতিবেদনটি গোয়াইনঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পর্যটন কেন্দ্রের সৌন্দর্য রক্ষা এবং পর্যটকদের সুবিধার্থে এই অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা জরুরি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে পর্যটকদের জন্য সৌন্দর্য বৃদ্ধি, গাড়ি পার্কিং ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST