
বিশেষ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
এসএসসি পাস ও নার্সিং কোর্স সম্পন্ন করা এক তরুণীর অভিনব প্রতারণার জালে নিঃস্ব হয়েছেন সমাজের অনেক উচ্চশিক্ষিত ও সম্মানিত ব্যক্তি। নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা এমবিবিএস ডাক্তার, বিসিএস ক্যাডার এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি অর্জনের জন্য মনোনীত শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে একের পর এক বিয়ে ও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে অনামিকা রয় নামের এক তরুণীর বিরুদ্ধে।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ এলাকার বাসিন্দা অনামিকা রয়ের এই অপকর্মের তথ্য সম্প্রতি প্রকাশ্যে এনেছেন তার ২৭ নম্বর স্বামী বলে দাবি করা এক ভুক্তভোগী। তথ্য সূত্র হিসেবে জানা গেছে আরিফুল রাবুর নাম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সনাতন ধর্মাবলম্বী অনামিকা রয় কৌশল হিসেবে ধর্ম পরিবর্তনের নাটক সাজাতেন। নিজেকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত দাবি করে নিজের নতুন নাম দেন ‘ফারিয়া জান্নাত সুভা’। ‘ভালোবেসে ধর্ম পরিবর্তন করেছি’—এমন সহানুভূতিশীল গল্প শুনিয়ে ভুক্তভোগীদের আস্থার জায়গায় খুব সহজেই পৌঁছে যেতেন তিনি। নিজেকে অত্যন্ত ধার্মিক হিসেবে উপস্থাপন করতে ধর্মীয় পোশাকের আড়ালে নিজেকে ঢেকে রাখতেন, যা তার মূল অপরাধ ঢাকতে ঢাল হিসেবে কাজ করত।
অনামিকার পাতা চতুর ও নিখুঁত স্ক্রিপ্টের ফাঁদে পা দিয়েছেন সমাজের বহু প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি। তার প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন ডাক্তার, প্রকৌশলী ও বিসিএস ক্যাডারসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসতেন এই তরুণী। বিয়ের সময় কাবিননামায় ১৫ থেকে ২০ লাখ, এমনকি ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত কাবিন নির্ধারণ করতেন। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামীদের নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল ও আইনি ফাঁদে ফেলে কাবিনের টাকা আদায় করতেন।
শুধু কাবিনের টাকাই নয়, সুযোগ বুঝে রাতের আঁধারে ঘরের নগদ টাকা, ভরি ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে রাতারাতি উধাও হয়ে যেতেন তিনি। লোকলজ্জা ও সামাজিক মান-সম্মান হারানোর ভয়ে ভুক্তভোগীদের প্রায় সবাই আইনি ঝামেলায় না গিয়ে নীরবে টাকা দিয়ে মুক্তি পাওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।
প্রতারণা শেষে অনামিকা কোনো এলাকাতেই বেশিদিন অবস্থান করতেন না। ঘন ঘন আস্তানা ও এলাকা পরিবর্তন করতেন। তাকে যেন কোনোভাবেই ট্রেস করা না যায়, সেজন্য তার নিজের নামে ও বেনামে নিবন্ধিত প্রায় ৩৪টি মোবাইল সিম ব্যবহার করতেন। একেকজনের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রতারণার কাজে একেকটি সিম ব্যবহার করে নিমিষেই নিখোঁজ হয়ে যেতেন তিনি।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশসহ সারা দেশের যুবকদের এ ধরনের অভিনব ও সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র থেকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বৈবাহিক বা যেকোনো সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST