
জামাল খান,জেলা সংবাদদাতা
ভোলায় নিজ বসতঘরে ঢুকে মাওলানা আমিনুল হক নোমানী (৪৫) নামে এক মসজিদের খতিব ও মাদরাসা শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে তৌহিদি জনতার পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে প্রশাসনকে। দাবি না মানা হলে জেলা ব্লকেডের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে শহরের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাওলানা আমিনুল হক নোমানীর জানাজার পূর্বে ওই কর্মসূচি ঘোষণা করেন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোবাশ্বিরুল হক নাঈম।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোলার সব স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা বন্ধ, বেলা ১১টায় তৌহিদী জনতার ব্যানারে সমাবেশ ও শোক র্যালি এবং জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান।
মাওলানা আমিনুল হক নোমানীর জানাজায় ইমামতি করেন ভোলার প্রবীণ আলেম মাওলানা রুহুল আমিন এবং জানাজা শেষে চচরনোয়াবাদ এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় নিহতের পরিবারের সদস্যসহ ভোলার রাজনৈতিক সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। এ সময় নিহতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, মাওলানা আমিনুল হক নোমানীর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য গতরাতে ভোলার প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছিল। ২৪ ঘণ্টা হতে চললেও এখনো হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হত্যাকারীদের ধরতে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপও দেখিনি। এ হত্যাটি ইসলামী নেতৃত্বকে শূন্য করার চক্রান্ত। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় না আনা হলে ভোলা জেলা ব্লকেড করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে তাদের বিচারের দাবিতে সোমবারের ৩ কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম দৃশ্যমান না হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কার্যক্রম ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাত মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, ঘটনাটি শোনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করেছি। ডিবিসহ আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্ত সাপেক্ষে যারা দোষী, তাদের শনাক্ত করবো এবং আইনের আওতায় আনবো। তবে এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।
প্রসঙ্গত, শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে আমিনুল হক নোমানী এশার নামাজ শেষে বাসায় ফেরেন। এরপর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে একদল অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত তার বাসায় প্রবেশ করে পেট, বুকে ও গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে চলে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় মসজিদের ছাত্র ও মুসল্লিরা হুজুরের বাসা থেকে আওয়াজ পেয়ে সেখানে গিয়ে তাকে রক্তমাখা অবস্থায় দেখতে পান। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের স্ত্রী ও সন্তানরা তখন তজুমদ্দিনে বেড়াতে থাকায় বাসা খালি ছিল।
আমিনুল হক নোমানী ২০০৮ সাল থেকে ভোলা সদর উপজেলা জামে-মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ভোলা দারুল হাদিস কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস এবং ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের জেলার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST