
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গাড়ির কাচ নামিয়ে “হ্যালো স্মার্টবয়” বলে ডাকেন এক মধ্য বয়সী নারী। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবক এগিয়ে আসে। কিছুক্ষণ কথা বলার পর তিনি গাড়িতে ওঠেন এবং গাড়িটি বনানীর দিকে রওনা হয়। যুবকটির পোশাক-পরিচ্ছদ, আচরণ এবং অপেক্ষার ধরন দেখে বোঝা যাচ্ছিল, কারো জন্য আগেই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অপেক্ষা করছিলেন তিনি। এটা কোন গল্প নয় এভাবেই এখন মেয়েরা নিয়ে যাচ্ছে ছেলেদের।
জানা যায়, সুঠামদেহী এই যুবক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তবে পাশাপাশি তিনি এমন একটি কাজের সঙ্গে জড়িত, যা অনেকেই গোপনে করেন এবং যা সাধারণত ব্যক্তিগত সঙ্গ, সময় দেওয়া বা সঙ্গ চাওয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সমাজে কেউ একে “এস্কর্ট”, কেউ “সহচর/সঙ্গী সেবা” বা “পেইড কম্প্যানিয়নশিপ” হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন।
ঢাকায় এই ধরনের ব্যক্তিগত সঙ্গদাতা বা কম্প্যানিয়ন হিসেবে কাজ করেন অনেকেই। তাদের একজন পরিচিত নাম রিদওয়ান সামি (এটি তার প্রকৃত নাম নয়)।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বিদেশি পর্যটকদের গাইড হিসেবে কাজ করতেন। তখন এক বিদেশি মহিলা তাকে এমন ব্যক্তিগত সহচরত্ব/কম্প্যানিয়নশিপের প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে সময়ের সাথে পরিচিতদের মাধ্যমে এই পেশায় জড়ান তিনি।
রিদওয়ান জানান, যারা এই ধরনের সেবা চান তারা সাধারণত ব্যক্তিগত, মানসিক সমর্থন,সঙ্গ বা সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করেন। কেউ কেউ শুধু কথা বলা, বাইরে কোথাও যাওয়া বা ব্যক্তিগত সহায়তার মতো সীমিত বিষয়ে সাহায্য চান।
এ কারণে কিছু মানুষ ওয়েবসাইট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত পরিচিতি তৈরি করে থাকেন। তবে এই জায়গায় প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল বা বেআইনি কাজও ঘটে থাকে যা আইনগতভাবে দণ্ডনীয়।
সম্প্রতি এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে কিছু মানুষ ব্যক্তিগত সঙ্গের নামে অবৈধ কর্মকাণ্ড, ব্ল্যা’কমেইল বা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের হুম’কি দেয়। তাই এই ধরনের কাজ বা যোগাযোগ আইনগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি সামাজিক অবক্ষয়ের একটি দিক। ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সম্পর্কের বিষয়ে আইন ও নৈতিকতার সীমা বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে। পরিবার ও সামাজিক কাঠামো টিকিয়ে রাখতে সচেতনতা, নৈতিক শিক্ষা এবং আইনের প্রয়োগ জরুরি।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST