ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়,মোঃ নিশাদুল ইসলাম নিশাদঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জেলার নাসিরনগর উপজেলায় সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের ছেলে, বোনজামাই ও ভাগ্নের স্ত্রীর সারের ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ডিলারদের তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নে সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের ছেলে আদনান সাদী ‘মেসার্স আলীয়াহ ট্রেডার্স’ নামে ডিলারশিপ পেয়েছেন। নাসিরনগর সদর ইউনিয়নে তাঁর বোনজামাই আরক মিয়া ‘মেসার্স আয়ান ট্রেডার্স’ এবং গোয়ালনগর ইউনিয়নে তাঁর ভাগ্নে শরীফের স্ত্রী নুরুন্নাহার আক্তার স্বর্ণা ‘এস এস ট্রেডার্স’ নামে ডিলারশিপ পেয়েছেন।
এমপির ছেলে ও আত্মীয়স্বজনের ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনও নিশ্চিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
নাসিরনগর ছাড়াও জেলার অন্যান্য উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আবেদন যাচাই-বাছাই ও প্রাথমিক তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার এবং তালিকায় অগ্রাধিকার পেতে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১০১টি ইউনিয়ন ও পাঁচটি পৌরসভায় ১০৬টি সারের ডিলারশিপের বিপরীতে আবেদন করেন ৮২৫ জন। যাচাই-বাছাই শেষে ২৯২ জনের নাম সুপারিশ করে সার ডিলার-সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে পাঠানো হয়। জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি প্রতিটি ইউনিয়নের ডিলার নিয়োগের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিনজনের নাম সুপারিশ করে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠানো হয়। যাচাই শেষে সেখান থেকে তিনজনের নাম সুপারিশ করা হয়। তবে তালিকায় প্রথম অবস্থানে নাম রাখতে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও ওঠে।
অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান বলেন, উপজেলা থেকে প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য যেসব নাম পাঠানো হয়েছে, সেগুলোই সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে দু-একটি ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
ডিলারশিপ পাইয়ে দিতে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি নিজে এমন কোনো লেনদেন করেননি এবং অন্য কেউ করেছেন—এমন অভিযোগও তাঁর জানা নেই। তবে উপজেলা পর্যায়ে তালিকা প্রণয়নে হস্তক্ষেপ হয়ে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডিলার তালিকা প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের কাছে কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও বক্তব্য পাওয়া গেলে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।মন্তব্য করুন
Design & Developed by BD IT HOST