হাইব্রিডের উৎপাতে কোণঠাসা ত্যাগীরা তার বাস্তব উদাহরণ গাজী পুর নির্বাচন। - দৈনিক অভিযোগ বার্তা    
News Editor
২৮ মে ২০২৩, ৬:৩৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

হাইব্রিডের উৎপাতে কোণঠাসা ত্যাগীরা তার বাস্তব উদাহরণ গাজী পুর নির্বাচন।

-ইকবাল আহমেদ লিটন: হাইব্রিড নেতাদের উৎপাতে দল দিনেদিনে দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাদের বিষয়ে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে, শুধু জিনিস পত্রের মধ্যেই নয়, দলের মধ্যেও ভেজাল ঢুকে গেছে। এক শ্রেনীর সুবিধাবাদি মানুষ যেভাবে লম্বালম্বা বুলি ঝাড়ছে তাতে তিক্ত ও বিরক্ত দেশবাসি। যারা জীবনে কখনই আওয়ামী লীগের, ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, এমনকি তাদের চৌদ্দগোষ্টিরও কেউ কখনো বঙ্গবন্ধুর নামটি পর্যন্ত উচ্চারনও করেননি বা দলটির সমর্থকও ছিলেন না। তাদেরই এখন বুক চিতিয়ে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ বলে জাহির করতে দেখা যায়। তাদের আস্ফালন দেখে মাননীয় নেত্রী ও দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীরাও হতাশায় সুর মিলিয়ে বলছেন, এত ছাত্রলীগ এত যুবলীগ আমরা রাখবো কোথায়?

২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ও ২০১৪ সালে তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ভূইফোড় হাইব্রিডদের আত্নপ্রকাশের হিড়িক লেগে যায়। তারা রাতারাতি নানা কিসিমের নেতা হয়ে ছড়ি ঘোরায়। এরা অনেকে আবার বিভিন্ন দল ছেড়ে এসেছে। পদত্যাগ না করে আসার কারনে বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগ, যুবলীগের নামেও বাজেবাজে মন্তব্য করেছে সংবাদ গনমাধ্যম। পর্দার আড়ালে থেকে কোন অশুভ রাহু শক্তিই এদের মদদ দিচ্ছে, এমনকি ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ স্বপরিবারে হত্যার শিকার হওয়ার পর যারা গরু মেরে আনন্দ উৎসব করেছে, সেই সমস্থ মানুষ নামক পশুরাও ভোল পাল্টিয়ে রাতারাতি এখন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক বনেছেন, চোঁখে চশমা লাগিয়ে বুদ্ধিজীবি সেজেছেন।

আবার যখন তৃতীয় মেয়াদের ৫ই জানুয়ারি এলো তাদের মনে হয় বুঝতে কষ্ট হচ্ছিল, কি হবে দেশের অবস্থা? এ জন্য অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন ও পালিয়েছিলেন। সেদিন রাজপথে কারা ছিলো আর কারা ছিলো’না তার প্রমান গোয়েন্দা রিপোর্টই দেবে। তখন কোথায় ছিলো সেই লিমিট ওয়ালা সিন্দাবাদের বুড়ারা আজ যারা কোটিপতি? যারা এক সময় ছেড়া সেন্ডেল আর আইরন ছাড়া পাঞ্জাবি পড়েছেন, এখন তারা রাতারাতি কোটিপতি বনে গেলেন। এমনও একটা দিন ছিল যে তাদের পরিবারের সকলের সহায় সম্পত্তি এক করলেও একখানা পুরাতন রিকশাও কেনা সম্ভব ছিলোনা। আজ তাদের দাপটে অসহায় ও দিশেহারা জনগন ও ত্যাগী কর্মীরা! ত্যাগী আওয়ামী লীগের অনেক ভাইকে সেদিন রাজপথে লাশ হতে হয়েছিল, রক্তে রঞ্জিত ছিল রাজপথ!কই সেদিনতো কোন প্রতিবাদ মিছিলে পর্যন্তও তো দেখিনি কোকিল পাখিদের? অতিথি পাখিরা যেমন, শীত আসলে আসে আর শীত চলে গেলে তারাও চলে যায়। ঠিক তেমনি, ক্ষমতা আছে বলে অতিথিরাও আছে,ক্ষমতা না থাকলে চলে যাবে। দূর্বিন ও ক্যামেরা দিয়েও এসব কোকিল ও অতিথিদের দেখা মিলবে না।

যাইহোক, ১৯৭৫ এর আগেও এ ধরনের উৎপাত বেড়ে গিয়েছিল এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর লন্ঠন হাতে করে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে একজনকেও মিলানো যেত’না ইতিহাস তার স্বাক্ষী আছে। তবে মনের গহীনে যাদের অবদানের কথা বারে বারে উতলে ওঠে, যে সমস্ত মানুষগুলি আমাদের সাথে রাজপথে ছিলো, জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশের জনগনের জানমাল জীবনের নিরাপত্তা রক্ষা করতে গিয়ে বিএনপি জামাতের আক্রমনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরন ও পঙ্গু হয়েছে, তারাই ২০০১ সালে নির্বাচনের পর দলের চরম দুর্দিনের সেই যোদ্ধারা যারা বর্তমানেও জেলজুলুম, মামলা, হামলার শিকার হচ্ছে বারবার। পিতার মৃত্যুতেও শেষ বারের জন্যেও জেল থেকে শেষ দেখা দেখতে আসতে পারেনি এমনকি বিএনপি জামাতের দেওয়া অগনিত মিথ্যা মামলা কাধে থাকার কারনে ছোট বোনটিকেও ভালো পরিবারে বিয়ে পর্যন্ত দিতে পারেনি। এমনও কর্মীরা আছে যাদের অধিকাংশ আজও অবহেলিত। আসলে ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতাকর্মীরা দল ক্ষমতায় থাকলেও বিরোধী,আবার বিরোধী থাকলেও বিরোধী, তাদের ভাগ্যের কোনদিন পরিবর্তন হয়না আর দেশরত্ন শেখ হাসিনা এসব নেতাকর্মীদের খুঁজে চলেছেন,দেশগড়ার নিমিত্তে এসব দেশ প্রেমিকদের আজ দলে বড়ই প্রয়োজন।

পরিশেষে,আসুন সকলে মিলে হাইব্রিড সিন্দবাদের বুড়ো ও সুবিধাবাদি,ঋণ খেলাপি, দুর্নীবাজদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ঠ অবস্থান তৈরি করি এবং মুখোশ খুলে দিই,যারা রাতের আঁধারে গোপনে বিএনপি-জামাতের সাথে আপোষ করে চলা ভুড়ি ওয়ালাদের। আর সামনে আগামী দ্বাদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখনই সময় যোগ্য নেতাকর্মীদের জেগে উঠার। দলের নীতিনির্ধারকদের নিকট একটাই দাবি,ত্যাগী ও যোগ্যদের মূল্যায়ন করুন।আর হাইব্রিড ভুইফোড় দেরকে প্রত্যাখান করুন।

লেখকঃ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, সদস্য সচিব আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগ,ইকবাল আহমেদ লিটনও দৈনিক অভিযোগ বার্তার প্রধান উপদেষ্টা সম্পাদক।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পর্তুগালের বড় জয় ও রোনালদোর বিশ্বকাপে ইতিহাস

ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রশাসনের আকস্মিক পরিদর্শন, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ

গোয়াইনঘাটের হাজীপুরে সনাতন পদ্ধতির আড়ালে অবৈধ ড্রেজিং: হুমকির মুখে রাস্তা ও ঘরবাড়ি

পাহাড়ি ঢলে ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

নিখোঁজের ছয় দিন পর স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, প্রধান শিক্ষকসহ আটক – ৭

আর্জেন্টিনা প্রথম দল হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ডে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি

আজ দৈনিক অভিযোগ বার্তা’র সম্পাদক এস এম ফিরোজ আহামেদ’র জন্মদিন 

পাহাড়পুরে বিদেশি পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘হিরো নানা’ গ্রেফতার

হালদার সাত কিলোমিটার খনন

সিলেটের ডিসি ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম বদলি

১০

ময়মনসিংহে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

১১

ঠাকুরগাঁওয়ে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন

১২

যুক্তরাজ্যে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর নামে মামলা

১৩

গোয়াইনঘাটে মানবিক ওসির বিরুদ্ধে নোংরা রাজনীতি

১৪

রাজবাড়ীতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত।

১৫

বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ ৪ জন আটক,গাঁজা ও ইয়াবাসহ জব্দ

১৬

জৈন্তাপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ১ জনের কারাদণ্ড, উপজেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থান

১৭

জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়তে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে চসিক মেয়র

১৮

পাটুরিয়াঘাট এলাকা থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী আটক

১৯

বগুড়ায় ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএমএসএস

২০

Design & Developed by BD IT HOST